kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

খালেদার মুক্তি প্রসঙ্গে কাদের

এখানে সরকার বা আ. লীগের কিছু করার নেই

‘কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া কাউকে বহিষ্কার বা কমিটি বাতিল করা যাবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এখানে সরকার বা আ. লীগের কিছু করার নেই

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়, দুর্নীতির মামলা। আদালত যেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবেন। এটা আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা বা আমাদের কারো এখতিয়ারে নেই। কাজেই বারবার এই প্রশ্ন করে বিব্রত করবেন না। আমি বারবার এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই না।’ তিনি গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের এক যৌথ সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের অনেক কর্মসূচি রয়েছে। অনেক কাজ রয়েছে। দেশের কাজ, দলের কাজ। একজন খালেদা জিয়াকে নিয়ে বারবার প্রশ্নের জবাব দেব সেই সময় আমাদের নেই। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠনকে শক্তিশালী করার তৎপরতার অংশ হিসেবে গতকাল দলটির ঢাকা বিভাগের অধীন সব সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে যৌথ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

যৌথ সভায় দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা মোট ২৯টি সম্মেলন করেছি। এর মধ্যে দুটি ঢাকা সিটির। কিন্তু ঢাকা বিভাগে এ পর্যন্ত কোনো সম্মেলন হয়নি। শেখ হাসিনার বড় নির্দেশনা হচ্ছে দলকে সাজাতে হবে। সাংগঠনিকভাবে সুশৃঙ্খল এবং সময়ের চাহিদা মেটানো আমাদের অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দল ক্ষমতায় থাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা টের পাচ্ছেন না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেক জায়গায় দেখা যায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আছে, আট-দশ বছর হয়ে গেছে আর কেউ নাই, পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। আবার অনেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিচ্ছে, অনুমোদন পেতে পেতে ছয় মাস। সম্মেলন করতে বললে বলেন, আমাদের তো মেয়াদ শেষ হয়নি। সম্মেলন যেদিন থেকে হবে ক্ষণগণনা সেদিন থেকে হবে। কেন্দ্রীয় সম্মেলন থেকে শিক্ষা নিন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঘরে বসে কমিটি করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সম্মেলন ছাড়া কোনো কমিটি করা যাবে না। অনেক সময় জেলার নেতৃবৃন্দ উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দিয়েছেন। এটা হবে না। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোনো কমিটি ভাঙা যাবে না। কমিটি ভাঙতে হলে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করবেন। নেত্রী (শেখ হাসিনা) পর্যন্ত বিষয়টি গড়াবে। সেখানেই ফাইনাল সিদ্ধান্ত হবে যে কমিটি ভাঙার জন্য আপনার সুপারিশ যথাযথ কি না। কোনো কারণে আপনার সঙ্গে বনিবনা হলো না, যে কাউকে বহিষ্কার করে দিলেন। এভাবে বহিষ্কার করা যাবে না। কমিটি নিয়ে বসতে হবে। কমিটির কাছে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু সরাসরি বহিষ্কার করতে পারবেন না।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন সুসময়, কিন্তু দুঃসময় আসবে না, এটা কখনো ভাববেন না। কেউ কারো থাকবে না। আজকে নিজের মনে করে একজনকে নেতা বানাচ্ছেন, আপনার যখন খারাপ সময় আসবে আপনাকে সালামও দেবে না। কাজেই এসব নেতা বানিয়ে লাভ নেই।’

করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাবের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি যদি কোনো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কোনো কারণে মন্দা দেখা দেয়, তার প্রভাব সারা বিশ্বেই থাকে। করোনাভাইরাস আমাদের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে সেই অবস্থা এখনো আসেনি। এটা যদি বেশিদিন থাকে তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না।’

পদ্মা সেতুর কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়া প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতুর আড়াই শ চীনের কর্মী, শ্রমিক স্বদেশে ছুটিতে গেছে নববর্ষে। তারা এখনো আসেনি। করোনাভাইরাসের যে প্রতিক্রিয়া এর পরও তিনটি স্প্যান আমাদের বসে গেছে। আগামীকালও একটি স্প্যান বসার কথা। যারা ছুটির কারণে চীনে আছে, আগামী আড়াই মাসের মধ্যে তারা ফিরে না আসলে একটু সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তবে আগামী দুই মাসে কাজের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা