kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রী বললেন

কক্সবাজারের সাগরতীরে আর উঁচু স্থাপনা নয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজারের সাগরতীরে আর  উঁচু স্থাপনা নয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে ‘নাফ ট্যুরিজম পার্ক’, ‘সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক’ ও ‘সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক’-এর মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। ছবি : ফোকাস বাংলা

কক্সবাজার সমুদ্রতীরে উঁচু স্থাপনা নির্মাণ না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা সমুদ্রের তীর ঘেঁষে উঁচু স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেব না।’

গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে কক্সবাজার এলাকায় নির্মাণাধীন তিনটি বিশেষ পর্যটন উদ্যানের (স্পেশাল ট্যুরিজম পার্ক) মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) অবলোকনকালে এ নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) মহেশখালীতে সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক এবং টেকনাফ উপজেলায় নাফ ট্যুরিজম পার্ক (এনএএফ) এবং সাবরং ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মহাপরিকল্পনাগুলোর লক্ষ্য হলো বাস্তুসংস্থান সংক্রান্ত ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র্য, দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং পরম্পরাকে রক্ষা করে পর্যটনবান্ধব অঞ্চল গড়ে তোলা এবং কক্সবাজার জেলার আওতাধীন বিভিন্ন পর্যটন এলাকার মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করা।

প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ সহনশীল করে পর্যটন উদ্যানের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখেই ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণ করতে হবে।’

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বালুময় সমুদ্রসৈকত আখ্যায়িত করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই ৮০ মাইল দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত বিশ্বের অন্যতম সুন্দর একটি পর্যটনকেন্দ্র।’ প্রধানমন্ত্রী সাবরং পর্যটন উদ্যানটি শুধু বিদেশিদের জন্যই নির্মাণের নির্দেশনা দেন। তিনি প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্নভাবে এই উদ্যানটি নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে যাতে অন্যান্য দেশের পর্যটকরা এর প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসে।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক খায়রুল আনাম অনুষ্ঠানে সাবরং এবং নাফ পর্যটন উদ্যানের মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য দিক উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে বালাকৃষ্ণান সুরেশ মাহিন্দ্র ভিডিওচিত্রের সাহায্যে সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।

সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্কের মাস্টারপ্ল্যান তৈরির পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস দেন, আগামী ২৪ মাসের মধ্যেই এখানে পর্যটকরা পরিভ্রমণ করতে পারবেন এবং পার্কটিকে সম্পূর্ণ রূপ দিতে ৯ বছর সময় লাগবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের বাস্তুগত ভারসাম্য সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে এই পর্যটন উদ্যানটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সোনাদিয়ায় দেশের প্রথম ইকো ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে বেজা ‘মাহিন্দ্র কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার্স’ এবং ‘ডেভকন কনসালট্যান্টস লিমিটেড’কে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিযুক্ত করেছে।

কক্সবাজারের আওতাধীন সাবরং ও নাফ পর্যটন উদ্যান স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্ট এবং কোরিয়ার দোহওয়া (ডিওএইচডাব্লিউএ) কনসালট্যান্ট লিমিটেডকে পরামর্শক সংস্থা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোনাদিয়ায় ৮ হাজার ৯৬৭ একর জমির ওপর সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্কটি গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ৯০৯ একর জমি কাজে লাগানো হবে এবং বাদবাকি অংশ অটুট থাকবে। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা