kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে যাচ্ছে দ্রুতই!

প্রতিনিধিদল আসছে শনিবার
অভিবাসন ব্যয় কমাতে শুধুই জিটুজিতে জোর

হায়দার আলী   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে যাচ্ছে দ্রুতই!

বাংলাদেশের জন্য অন্যতম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ার দরজা খুলতে যাচ্ছে প্রায় দেড় বছর পর। সে লক্ষ্যে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম আগামী শনিবার ঢাকায় আসছে। এরপর আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ গতকাল বুধবার বলেন, ‘মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর আজই ঢাকায় আসার কথা ছিল। কিন্তু সফরটি কয়েক দিন পেছানো হয়েছে। তিনি আগামী শনিবার আসছেন।’ মন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়া চাচ্ছে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে। আমরাও চাই বাংলাদেশ থেকে কম খরচে কর্মী পাঠাতে। উভয় দেশ একমত হলে দ্রুতই মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি শুরু করতে পারব।’

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি আগামী শনিবার ঢাকায় এসে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবস্থান করবে। এই সময়ের মধ্যে জনশক্তি রপ্তানি ইস্যুতে দুই দেশের বৈঠক ছাড়াও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ইস্যুতেও কর্মসূচি রয়েছে এম কুলাসেগারানের। তাঁর এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

মালয়েশিয়ার একটি সূত্রে জানা গেছে, দেশটির সরকার বিনা খরচে বাংলাদেশ থেকে কিভাবে কর্মী নেওয়া যায় সেই প্রক্রিয়া নিয়ে এগোতে চাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে বিগত সময়ে ১০টি এজেন্সির একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনপ্রতি সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী গেলেও শত শত কারখানা কিংবা কম্পানি থেকে বেশি বেতনের লোভে ওই সব কর্মী পরে অবৈধ হয়ে অন্য কারখানায় চলে গেছে। বিশেষ করে উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের কারণেই কর্মীরা বেশি উপার্জনের লোভে পড়ে অবৈধ হয়ে যায়। আর বিনা খরচে কিংবা সামান্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী গেলে এক কারখানা থেকে অন্য কারখানায় পালিয়ে যাওয়া কিংবা অবৈধ হয়ে যাওয়ার হার কমবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

সম্প্রতি কালের কণ্ঠ ও মালয়েশিয়ার পত্রিকা মালয়েশিয়াকিনিতে প্রবাসীদের দুঃখকষ্ট নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। ওই সব প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়—উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের কারণে কিভাবে শ্রমিকরা মালয়েশিয়ায় গিয়ে দাসত্বের ফাঁদে আটকে যাচ্ছে, কিভাবে বৈধ থেকে অবৈধ হয়ে পড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ওই সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমলে নিয়ে মালয়েশিয়া সরকার এখন চাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে কর্মী নিতে। সরকার টু সরকার (জিটুজি) প্লাস নয়, কেবল জিটুজি পদ্ধতিতেই মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায়।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রথম জিটুজি চুক্তি অনুযায়ী বাগান পরিচর্যা (প্লান্টেশন) আর কৃষি শ্রমিক হিসেবে প্রথম পর্যায়ে সে দেশে সরকারিভাবে ১০ হাজারের বেশি কর্মী গিয়েছিল। তাতে জনপ্রতি অভিবাসন ব্যয় পড়েছিল মাত্র ৩৩ হাজার টাকা। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিটুজি চুক্তির অধীনে এর আগে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে শুধু কৃষি আর বাগান পরিচর্যা খাতে কর্মী নেওয়ার কারণে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার হার খুবই কম ছিল। জিটুজি পদ্ধতিতে সব সেক্টরেই কর্মী পাঠানো গেলে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার হার অনেক বাড়বে। কম অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগটা সবাই নিতে পারবে। একই সঙ্গে দালালদের দৌরাত্ম্য আর প্রতারণা কমে আসবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা