kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

ঢাকায় ‘আকাল’ গণপরিবহনের

চালকদের নৈরাজ্য সংকট বাড়িয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চালকদের নৈরাজ্য সংকট বাড়িয়েছে

নির্দিষ্ট স্থান ছাড়াই যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা করায় বাসগুলো। সেই বাসে উঠতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাত্রীরা। গতকাল কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

মধ্য ও নিম্ন আয়ের বিপুল মানুষের বসবাস মিরপুরে। এখানে বসবাসরত কয়েক হাজার কর্মজীবীকে প্রতিদিন যেতে হয় বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি পাশের জেলা গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জেও ছুটতে হয় অনেককে। রোজকার যানজট আর ট্রাফিক সিগন্যালের বাধা পার হয়ে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাঁদের। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মিরপুরের বাসিন্দাদের নিত্যদিনকার এই যাতনার সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে মেট্রো রেল ও কালশী ফ্লাইওভার নির্মাণযজ্ঞ। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশন থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সড়কে মেট্রো রেল রুট স্থাপনা কাজের কারণে সড়কটি অনেক সরু হয়ে গেছে। গলিপথের মতো এই সড়কে একই সঙ্গে বাস, কাভার্ড ভ্যান তথা ট্রাক, ভ্যান, সিএনজি স্কুটার, হিউম্যান হলার ও মোটরসাইকেল চলছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মিরপুর থেকে মতিঝিল সড়কে দেখা যায় কর্মস্থলগামী শত শত যাত্রী অপেক্ষায় আছেন, বাসের জন্য। প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও বাস রয়েছে বেশ কিছু, তার পরও সঠিক সময়ে বাস পাচ্ছেন না যাত্রীরা, পেলেও উঠতে হচ্ছে ঠেলাঠেলি করে, কখনো বিপজ্জনকভাবে দৌড়ে চলন্ত বাসে লাফিয়ে পড়ে, কখনো হ্যান্ডেলে ঝুলে উঠতে হচ্ছে। বাসগুলো সড়কের যেকোনো স্থানে মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। বাসগুলো ওভাবে সড়কের মাঝখানে দাঁড়ানোর কারণে তাদের পাশ কাটিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পার হয়ে যাচ্ছে সিএনজি, মোটরসাইকেল, পিকআপ। কখনো আবার একই আকারের অন্য বাসও এসে পড়ে ফাঁক গলে। এসব কারণে প্রতিমুহূর্তে তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। আবার একই রুটের একটি বাস যাত্রী নেওয়ার জন্য দাঁড়ালে পেছন থেকে আরেকটি বাস চলে আসে যাত্রী নেওয়ার জন্য। চালকরা শুরু করেন অসুস্থ প্রতিযোগিতা। নির্দিষ্ট স্টপেজের পরেও বাসগুলো যত্রতত্র সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানোর কারণে বিশেষ করে বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের পক্ষে বাসে ওঠা সম্ভব হয় না, তাদের অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার সময় মিরপুর শাহ আলী মার্কেটের সামনে পর পর তিনটি বাসে উঠতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে অবশেষে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে বসলেন মেহের আফরোজ নামের এক নারী। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বড় কর্মকর্তা। দ্রুত অফিসে যেতে হবে তাঁকে। চালক সিএনজি ঘুরিয়ে ঢাকা সেনানিবাস হয়ে গেলে দ্রুত যেতে পারবেন বলে যাত্রীকে জানালেন। মতিঝিলের বলাকা ভবনের সামনে নামবেন, ভাড়া ৪০০ টাকা। সুযোগসন্ধানী সিএনজিচালকের সামনে উপায়হীন যাত্রী আপত্তি করলেন না।

শাহ আলী মার্কেটের সামনে ঘণ্টাখানেক ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাসেত নামের এক  লোক, সঙ্গে তাঁর অসুস্থ বাবা, তাঁকে নিয়ে যাবেন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। তিনি বাবার হাত ধরে বেশ কয়েকবার বাসে ওঠার চেষ্টা করলেন, বাস রাস্তার মাঝখানে দাঁড়ানোর কারণে উঠতে পারলেন না, যখনই বাসের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন, পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় সিএনজি, মোটরসাইকেল, হিউম্যান হলার। বাসের আশা ছেড়ে দিয়ে তিনিও একটি সিএনজি জোগাড় করার চেষ্টায় রত হলেন। মিরপুর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো মতিঝিলের দিকে যেতে চায় না জ্যামের কারণে। আবার গেলেও ভাড়া হাঁকে ঢের বেশি। দুপুর ২টার দিকে পল্টন থেকে উত্তর দিকগামী বাসগুলোতে দেখা যায় যাত্রীরা অনেকটা দৌড়ে, ঠেলাঠেলি করে উঠছেন। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অফিসফেরতা সময়ে এই অবস্থা আরো জটিল রূপ নেয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা