kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে একজন নিহত, আহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা ও সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে একজন নিহত, আহত ৭

সিদ্ধিরগঞ্জের সাহেবপাড়া এলাকায় গতকাল গ্যাসের চুলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের আটজন দগ্ধ হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বাড়িতে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়ে একজন নিহত ও সাতজন গুরুতর আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোরে সাহেবপাড়া বাজার সংলগ্ন বিদ্যুৎ কর্মকর্তা ফারুকের মালিকানাধীন বহুতল ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে খুলনায় গত রবিবার রাতে তিনটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নগরীর হরিণটানা থানার শ্মশান ঘাট এলাকায় আগুনে পুড়ে এক ভিক্ষুক মারা গেছেন। অন্যদিকে ফরিদপুরের সালথায় গতকাল আগুনে মারা গেছেন এক বৃদ্ধ।

সিদ্ধিরগঞ্জের বিস্ফোরণের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূরজাহান বেগম। চিকিৎসাধীন আছে কিরণ (৪৫), হিরন মিয়া (২৬), ইমন (২২), আপন (১২), কাউছার (১৪), মুক্তা (২৫) ও ইলমা (৩)। তাদের মধ্যে দু-তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায়ই গ্যাস না থাকায় রাতে চুলা চালু রেখে ঘুমিয়ে পড়ে ওই এলাকার অনেকেই। গতকাল ভোরে নূরজাহান বেগম চুলায় আগুন জ্বালাতে গেলে পুরো ঘরে আগুন ধরে যায়। এতে গুরুতর আহত হয় পরিবারের আট সদস্য।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, ধারণা করা হচ্ছে রাতে রান্নার চুলা বন্ধ না করে ওই পরিবারের লোকজন ঘুমিয়ে পড়েছিল। ফলে চুলা থেকে গ্যাস বের হয়ে ঘরের ভেতর জমে থাকে। পরদিন ভোরে রান্নাঘরে চুলায় আগুন ধরাতে গেলে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ হয়।

এদিকে খুলনায় গত রবিবার রাতে তিনটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানগুলো হলো নগরীর পশ্চিম রূপসার তেরোগোলা এলাকার সমিলের আড়ত; হরিণটানা থানার শ্মশান ঘাট এলাকা এবং দিঘলিয়া উপজেলার জামান জুট মিল।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, রাত ১২টার দিকে হরিণটানার শ্মশান ঘাট এলাকায় একটি কুঁড়েঘরে আগুন লাগে। খবর পেয়ে খুলনা সদর স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি ইউনিট সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাত ১টার দিকে কোকাকোলা  গোডাউনের পাশের সমিলের কাঠের আড়তে আগুন লাগে। খবর পেয়ে টুটপাড়া স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে সেখানে দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ছাড়া রাত ১টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার জামান জুট মিলে আগুন লাগে। খবর পেয়ে খুলনা স্থল-কাম-নদীর সাইট স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কায়েমুর জামানের নেতৃত্বে সেখানে দুটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অন্যদিকে ফরিদপুরের সালথায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে খোরশেদ ফকির নামে এক এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের খলিশাপট্টি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুব্রত গোলাদার জানান, ওই গ্রামের মৃত ফাহাম ফকিরের ছেলে খোরশেদ অন্ধ। তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে বাড়িতে কেউ ছিল না। এ সময় বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে বাড়িতে আগুন লেগে যায়। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে খোরশেদ ফকির ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা