kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

লাউ ১০-১৫ টাকা টমেটোর কেজি ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লাউ ১০-১৫ টাকা টমেটোর কেজি ২০

রাত ৪টা। কারওয়ান বাজার। সোনারগাঁও হোটেলের উল্টো পাশের প্রবেশমুখ দিয়ে বাজারে ঢুকতেই নজরে এলো সহস্রাধিক মানুষের ঢল। কেউ ক্রেতা, কেউ বিক্রেতা আর কেউ পণ্য বহনকারী শ্রমিক। রাজধানীর বাদবাকি এলাকা গভীর নিদ্রামগ্ন থাকলেও এখানে এসে রাতের নিস্তব্ধতা কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে। সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামতেই হৈচৈ কোলাহল মুখরতায় হারিয়ে যাওয়া যেন। সবার মাঝে এক ধরনের কর্মচাঞ্চল্য; বেচাকেনায় লাভের পাল্লা নিজের দিকে রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা। কারোরই এক মিনিট কথা বলার ফুরসত নেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারিদের নিয়ে আসা হরেক পদের সবজির বোঝা ট্রাক থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যাচ্ছে বেচাকেনার ধুম। মুহূর্তেই হাতবদল হয়ে ভ্যান-টেম্পোতে উঠে ঝাঁকা ঝাঁকা সবজি রওনা হয়ে যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের দিকে।

বাজারের প্রবশমুখের সামনেই দেখা গেল পলিথিনের মধ্যে আলাদা করে পেঁয়াজ, মরিচ, মটরশুঁটি, বেগুন, আলু, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির পাঁচ কেজির শতাধিক প্যাকেট পড়ে আছে ফুটপাতে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে এই সবজিগুলোই পৌঁছে যাবে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে। একটি অনলাইন শপের মাধ্যমে ক্রেতাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে এসব প্যাকেট। আগের রাতে, কিংবা সকালে যাঁরা অর্ডার করবেন তাঁদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে এসব পণ্য। তবে দাম অনেকটা খুচরা বাজারের মতোই। অনেক ক্ষেত্রে বেশিও। অনলাইন শপটির কর্মচারী সৃজন মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের মালিক বাজারের ভেতরে গেছেন। অনলাইনে পাওয়া মালের অর্ডার নিয়ে সে অনুযায়ী সবজি কেনা হয়। সারা রাত আমরা সবজি কিনে আলাদা করে এখানেই (কারওয়ান বাজারের ফুটপাত) প্যাকেট করে ফেলি। পরে পিকআপে ওঠানো হয়। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ক্রেতাদের বাসায় পৌঁছে দিই।’

বাজারের এক কোণে ৪০০ থেকে ৫০০টি লাউয়ের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন দুলাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘এই লাউগুলো ময়মনসিংহ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে রাতেই। খুচরা ও পাইকারি দুই ভাবেই চলছে বিক্রি। সকালে দোকান বন্ধ করার সময় যে লাউগুলো বাঁচবে সেগুলো ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়।’

ময়মনসিংহ থেকে নিয়ে আসা টমেটো ক্যারেটে সাজিয়ে বিক্রি করছেন আল আমিন হোসেন। প্রতিটি ক্যারেটে ২৫ থেকে ২৭ কেজি টমেটো থাকে। তিনি বলেন, ‘প্রতি ক্যারেট ৫০০ টাকা করে বিক্রি করছি। নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বেশির ভাগ শেষ হয়ে গেছে।’

প্রতি রাত ১০টার পর থেকে বদলে যায় কারওয়ান বাজারের চেহারা। যখন পুরো রাজধানীবাসী ঘরমুখো হয়, তখন কারওয়ান বাজারের পাইকারী সবজি ব্যবসায়ী ও রাজধানীর খুচরা বিক্রেতাদের কর্মব্যস্ততা শুরু হয়। বেশির ভাগ সবজিই পাইকারিতে পাল্লা (পাঁচ কেজি) হিসেবে বিক্রি হয়। সবজির পাইকারি ও খুচরা দামের ক্ষেত্রেও রয়েছে আশ্চর্য রকম ফারাক।

গত শুক্রবার রাতে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বাজারে নিয়মিত যে সবজি নগরবাসী কেজিপ্রতি ৪০-৭০ টাকায় কেনে সে সবজি কারওয়ান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০-২৫ টাকায়। পাইকারি বিক্রেতারা বলেন, ‘আমরা কম দামে ছাড়ার পরও কিছুটা লাভ থাকে। খুচরা দোকানিরা নিয়ে যে দামে বিক্রি করে, চাইলে তার চেয়ে কম দামে ছাড়তে পারে। তবে পরিশ্রম বেশি বলে হয়তো এমনটা করে না।’ পাইকারি পেঁপে বিক্রেতা জসিম মিয়া বলেন, ‘আমরা কৃষকের কাছ থেকে যে দামে আনতে পারি সে হিসেবে বেশি লাভ না করলেও খুচরা বিক্রেতারা বেশি লাভ করছে।’ সকালবেলা খুচরায় কেনা সবজি একটু মলিন মনে হলেও রাতের কারওয়ান বাজারে জমজমাট সবজির সমাহার যে কারো মন জুড়িয়ে দেবে ক্ষণিকেই। যেন সবুজের এক বিশাল সমাহার। ক্রেতা-বিক্রেতার পাশাপাশি ব্যস্ত দেখা গেল মালামাল বহন করা শ্রমিকদেরও।

প্রতি রাতে তিন শতাধিক শ্রমিক মাল ওঠানো-নামানোর কাজ করেন এখানে। নজরুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতি রাতে আমাদের অনেক কাজ থাকে এখানে। রাত ১০টা থেকে সারা রাত এই কাজ করে থাকি।’ বাজারের ব্যাপারি ছাড়া পাইকারি ও খুচরা ক্রেতাদের সঙ্গেও তাঁদের যোগাযোগ থাকে। মোবাইল ফোনে তাঁরা যোগাযোগ করেন। তাঁদের নিয়ে আসা পিকআপ ভ্যান-রিকশায় ঝাঁকাভর্তি শাক-সবজি তুলে দেন নজরুল ও তাঁর সঙ্গীরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা