kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

পদ্মা সেতুর কাজে গতি

বাকি আছে চারটি খুঁটি, ২৫তম স্প্যান বসানোর প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সরকারের মেগাপ্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এর মধ্যে পদ্মা সেতুও রয়েছে। সেতুর কাজে যুক্ত চীনা কর্মকর্তাদের একটি অংশ চৈনিক নববর্ষ উপলক্ষে ছুটিতে দেশে গিয়ে আটকা পড়ে। ছুটি থেকে যাঁরা ফিরেছেন তাঁদেরও রাখা হচ্ছে বিশেষ পর্যবেক্ষণে। তবে বাস্তবে এই প্রকল্পের কাজে করনোভাইরাসের কোনো প্রভাবই পড়ছে না।

দেশের অন্যতম বৃহৎ সেতু অবকাঠামো পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুত। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সেতুর ৪২টি খুঁটি বা পিলারের মধ্যে ৩৮টির কাজ শেষ হয়ে গেছে। ১০, ১১, ২৬ ও ২৭ নম্বর পিলারের কাজ বাকি আছে। এসব পিলারের কাজ শেষ হবে আগামী দুই মাসে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেতুর ২৫তম স্প্যান বসানোর প্রস্তুতি চলছে।

পদ্মা সেতু হবে পদ্মা নদীর ওপর মাওয়া থেকে জাজিরা পর্যন্ত ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে খুঁটির ওপর স্প্যান বসিয়ে সেতুর তিন হাজার ৬০০ মিটার দৃশ্যমান করা হয়েছে। সেতুর ৪২টি খুঁটি ২৯৮টি পাইলের ওপর বসানো হয়েছে। পিলারগুলোর ওপর সব মিলে বসানো হবে ৪১টি স্প্যান।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সেতুর মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ এগিয়েছে ৮৫.৫০ শতাংশ, নদীশাসনের কাজ এগিয়েছে ৬৬ শতাংশ। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছরের জুনে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) প্রকল্পের ৬৪.৩৩ শতাংশ অর্থ খরচ হয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, ২০২১ সালের জুনে পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল করবে।

প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের গত শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি ২৫তম স্প্যান জাজিরা প্রান্তে বসানোর প্রস্তুতি চলছিল। তবে তাতে আরো দু-এক দিন বেশি সময় লাগতে পারে। কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুত।’

কয়েক দিন আগে রাজধানীর বনানীতে সেতু ভবনে অনুষ্ঠিত প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দবিষয়ক সভায় জানানো হয়েছে, গত অর্থবছর পর্যন্ত সেতু প্রকল্পে ৬৪.৩৩ শতাংশ বা ১৯ হাজার ৪২৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। বাকি অর্থ চলতি অর্থবছরসহ তিন বছরে খচর করা হবে। চলতি অর্থবছর বরাদ্দ পাঁচ হাজার ৩৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্রকল্পের সম্ভাব্য বাজেট ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ১৭০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য বাজেট এক হাজার ৫৯৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যয় হবে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণের চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। নদীশাসনের চুক্তিমূল্য আট হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা