kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে ফার্মাসিস্টের লাশ

স্বজনদের অভিযোগ, হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে ফার্মাসিস্টের লাশ

প্রতীকী ছবি

রাজধানীর ডেমরা থানাধীন মাতুয়াইলের ফ্রেন্ডশিপ স্পেশালাইজড হসপিটালস অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক জামাল হোসেনের কক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে এক ফার্মাসিস্টের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর নাম মোবারক হোসেন (৩৩)। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্বজনদের দাবি, মোবারককে হাসপাতালে ডেকে নেন জামাল। তিনি তাঁর কক্ষে মোবারককে হত্যা করেছেন।

হাসপাতালের মালিক ডা. এমজি ফেরদৌস বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তিনতলায় তাঁর কক্ষে কর্মচারী আব্দুল জলিলের সঙ্গে মোবারক প্রবেশ করেন। তখন মোবারকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। বেশ কিছু সময় তাঁরা বসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। পরে মোবারক ও জলিল বেরিয়ে যান। পরিচালক জামালের কক্ষ তাঁর কক্ষ থেকে তিনটি কক্ষ পরে। তবে জামালের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ডেমরা থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মৃতদেহের গলায় ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।

গতকাল হাসপাতালে মঈনুল ইসলাম নামের একজন সাংবাদিকদের জানান, মোবারক তাঁর চাচাতো শ্যালিকার স্বামী। মোবারকের বাবার নাম সোলাইমান। গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহন থানার নজরআলী ব্যাপারীবাড়ী এলাকায়। কদমতলীর দনিয়ার নতুন রাস্তার ১৪/৬০ নম্বর বাসায় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার রিতুকে নিয়ে থাকতেন। আট মাস আগে তাঁরা বিয়ে করেন। মোবারক সাইনবোর্ড এলাকার প্রো-অ্যাক্টিভ মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন স্টোরে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি সকালে কর্মস্থলে যান। এরপর বাসায় ফেরেননি। প্রো-অ্যাক্টিভ মেডিক্যাল কলেজে মোবারকের সহকর্মী বেলাল হোসেন বলেন, জামাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় মোবারকের অফিসে যান এবং তাঁর কাজ শেষ কি না জিজ্ঞেস করেন। এর কিছুক্ষণ পর জামাল ও মোবারক অফিস থেকে বেরিয়ে যান।

মোবারকের বন্ধু নাহিদ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে স্ত্রী সাবিকুন্নাহার রিতুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে মোবারকের শেষ কথা হয়। রাত ৮টায় তিনি বাসায় না ফেরায় রিতু স্বামীর মোবাইল ফোনে একাধিক কল দিয়ে বন্ধ পান। তখন ফোন বন্ধ পাওয়ায় বিষয়টি তিনি স্বজনদের জানান। তাঁরা মোবারকের খোঁজ শুরু করেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে তাঁরা জানতে পারেন, ফ্রেন্ডশিপ স্পেশালাইজড হসপিটালসে জামালের কক্ষে মোবারকের লাশ পাওয়া গেছে। এর পরই স্বজনরা ছুটে যান সেখানে।

মোবারকের ভাই রুহুল আমিনসহ স্বজনদের অভিযোগ, মোবারককে হাসপাতালে ডেকে নিয়ে রাতে পিটিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য জানালার গ্রিলের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁরা মোবারক হত্যার বিচার দাবি করেন।

এদিকে প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানতে পেরেছে, বৃহস্পতিবার সকালেও চিকিৎসক মোবারক প্রো-অ্যাক্টিভ হাসপাতালে ছিলেন। দুপুরে তাঁকে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের পরিচালক ডেকে নিয়ে যান। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে করতে রাত পার হয়ে যায়। এরপর সকালে তাঁর এক স্বজনের কাছে একটা মেসেজে বলা হয়, ওই হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে তাঁর লাশ ঝুলছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে হাসপাতাল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

মন্তব্য