kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

দুই দিনব্যাপী ফার্ম ফ্রেশ চিলড্রেনস ডে ২০২০ শুরু

শিশুদের আনন্দ উচ্ছ্বাসের জমজমাট আসর

তানজিদ বসুনিয়া   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিশুদের আনন্দ উচ্ছ্বাসের জমজমাট আসর

গুলশান ২ নম্বর খেলার মাঠে গতকাল শুরু হয়েছে ফার্ম ফ্রেশ চিলড্রেনস ডে। ছবি : কালের কণ্ঠ

গেট দিয়ে ঢুকতেই বাঁ পাশে ছবি আঁকায় ব্যস্ত দেখা গেল এক দল শিশুকে। বাহারি রঙে নিজের মনের মতো করে ছবি আঁকায় নিমগ্ন সবাই। সন্তানদের সেই শিল্পসাধনা পরম তৃপ্তি নিয়ে নীরবে অবলোকন করছিলেন পাশেই উপবিষ্ট মা-বাবারা। ওদিকে মাঠের এক প্রান্তে মঞ্চে উঠে গান গাইছে আরেক দল শিশু। পাশাপাশি অভিনয়, ছড়া ও কবিতা আবৃত্তিও করছে কেউ কেউ। সেখানে মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে তা উপভোগ করছে সাধারণ দর্শকসহ পরিবারের সদস্যরা। অভিভাবকদের কেউ কেউ আবার ব্যস্ত ছিলেন নিজের সন্তানের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্তের সুখস্মৃতি ধরে রাখতে সেলফি উঠানোয়।

গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর গুলশানে শহীদ তাজউদ্দীন স্মৃতি পার্কের অঙ্গন ছিল এমনই হাজারো শিশু-কিশোর ও তাদের মা-বাবার পদচারণে মুখরিত। ‘হাসবে, খেলবে, বাড়বে শিশু; সবারই চাই ভালো কিছু’ শীর্ষক স্লোগানে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ‘ফার্ম ফ্রেশ চিলড্রেনস ডে ২০২০’-এ অংশ নিতে পরিবারগুলোর এই জমজমাট উপস্থিতি।

‘এখানে এসে ছবি আঁকলাম। এখন পুরো মেলা ঘুরে দেখব। খুব ভালো লাগছে।’ বাসাবো থেকে বাবার সঙ্গে আসা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনতাকা ইসলাম বলছিল কালের কণ্ঠকে। মেয়ের পাশেই দাঁড়ানো বাবা ওলিউল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকাতে বিনোদনের জায়গা খুব একটা নেই। বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য মাঠও কমে গেছে। সেই তুলনায় এখানে একটা ভালো আয়োজন হচ্ছে দেখে মেয়েকে নিয়ে এসেছি। মেয়েটা এখানে এসে ছবি আঁকল, এখন ঘুরবে। এটাতেই আমার আত্মতৃপ্তি।’

দুই সন্তান, স্ত্রী, শাশুড়ি, শ্যালক ও পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী দম্পতিসহ এসেছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আইটি কনসালট্যান্টে  কর্মরত জিয়াউর রহমান। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘দুপুরের পরে শ্যামলী থেকে এখানে এসেছি। অনেক দিন পর সবাই মিলে একসাথে ঘোরা হলো। সাথে বাচ্চারাও কিছুটা হই-হুল্লোড় করে সময় কাটাল।’ মাঠের এক পাশে স্থাপিত থ্রিডি বায়োস্কোপ দেখে বের হয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসাইবা বিনতে নাসিম বলল, ‘ভেতরে সিসিমপুর দেখেছি। হালুম, ইকরি ও টুকটুকিকে দেখেছি। আমার খুব ভালো লেগেছে।’ উত্তরা থেকে তিন বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে আসা ক্যামেলি মাহফুজা বলেন, ‘বাচ্চাকে নিয়ে ঘুরব। ও খেলাধুলা করবে। এ জন্যই ওকে নিয়ে এসেছি। বাচ্চার খুশি দেখে নিজেরও ভালো লাগছে।’ একই এলাকা থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে আসা ব্যবসায়ী মাহবুব ইসলাম বলেন, ‘আজকে বসন্তের প্রথম দিন আবার ভালোবাসা দিবস। তাই বাচ্চা ও স্ত্রীকে সময় দিতে এসেছি।’ ছেলে-মেয়ে ও সহধর্মিণীকে নিয়ে আসা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘বাচ্চাদের সময় দিতে পারতেছি, তারা ঘুরতেছে, মজা পাইতেছে—এটাই ভালো লাগতেছে।’ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে কর্মরত মহসিনুল হক বেজায় খুশি সন্তানদের সময় দিতে পেরে। তাঁর মেয়ে মাহিরা বিনতে হক মিহিকা বলছিল, ‘আমি পাজল গেম খেলে পুরস্কার পেয়েছি। এখানে অনেকগুলো রাইডে উঠেছি। খুব মজা করেছি।’

এর আগে সকাল ৯টায় ঢাকা-১১ আসনের এমপি এ কে এম রহমতুল্লাহ্ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এখানে খেলাধুলার পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন, কোলাজ ক্রাফট, সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, পুতুলনাচ ও গল্প, সিসিমপুর, ম্যাজিক শো, কমেডি ও মাইম শো, থ্রিডি বায়োস্কোপ, ফটো জোন, সার্কাস, গেম জোন ও ফান রাইড জোনসহ বিভিন্ন রাইডের আয়োজন রয়েছে। মূলত শহুরে জীবনে নিরাপদ ও নিশ্চিন্তে শিশুদের দুটি দিন আনন্দে কাটানোর ব্যবস্থা করতে ফার্ম ফ্রেশ এই আয়োজন করে বলে জানান আয়োজকরা।

আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের এজিএম মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠ দিন দিন কমে যাচ্ছে, যা শিশুদের বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তারা যাতে নিরাপদ ও নিশ্চিন্তে খেলাধুলা ও আনন্দ করতে পারে সে লক্ষ্যেই এই আয়োজন।’

এএফবিএলের ব্র্যান্ড ম্যানেজার তুহিন সুলতানা বলেন, ‘ঢাকায় শিশুদের বিনোদনের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই ২০১৬ সাল থেকে আমরা এ রকম আয়োজন করে আসছি। আমরা সব সময়ই শিশুদের জন্য কিছু না কিছু করার চেষ্টা করি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা