kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

বায়ুদূষণে ঢাকাকেও পেছনে ফেলছে ময়মনসিংহ

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বায়ুদূষণে ঢাকাকেও পেছনে ফেলছে ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ মহানগরে বায়ুমানের দিন দিন অবনতি হচ্ছে। দুই মাস আগেও যেখানে এ নগরের বায়ুমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেখানে বর্তমানে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ ও ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণির মধ্যে উঠানামা। স্থানীয় লোকজনের কাছে অবিশ্বাস্য হলেও বায়ুমানের অবনতিতে ময়মনসিংহ মহানগর এখন পৃথিবীর অন্যতম দূষিত শহর রাজধানী ঢাকাকেও পেছনে ফেলছে।

গত কয়েক দিনের উপাত্ত পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় সচেতন মহল। বায়ুদূষণে ঢাকাকেও পেছনে ফেলার বিষয়টিতে অনেকেই বিস্ময়ও প্রকাশ করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাপকাঠি অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০ বা এর নিচে হলে তা ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘গড়পড়তা’, ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সতর্কতামূলক’, ১৫১ থেকে ২০০ হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৫০০ হলে তা ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের বায়ুমান ছিল ৩০৪ (চরম অস্বাস্থ্যকর)। ওই দিন ঢাকার বায়ুমান ছিল ২৮৫। অর্থাৎ ওই দিন ময়মনসিংহের বায়ুমান ঢাকার তুলনায় এক ধাপ বেশি খারাপ ছিল। এর পরের দিন ৯ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের বায়ুমান ছিল ২৯৮। ওই দিন ঢাকার বায়ুমান ছিল ৩১৯। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের বায়ুমান ছিল ২১৮ (খুব অস্বাস্থ্যকর)। ওই দিন ঢাকার বায়ুমান ছিল ২৯২। এভাবে প্রায়ই ঢাকার চেয়ে ময়মনসিংহের বায়ুমান খারাপ পাওয়া যায়।

এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে বায়ুমান ছিল ১৮১ এবং ওই সময় ময়মনসিংহের গড় বায়ুমান ছিল ১৬০-এর মতো, যা বায়ুমানের ‘অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেখান থেকে দুই মাসে বায়ুমানের দ্রুত অবনতি ঘটে এবং বর্তমানে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণির শেষ ধাপে এসে ঠেকেছে। আর মাঝেমধ্যে তা ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিতেও (৩০১-৫০০) নেমে যাচ্ছে।

কারণ : সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, সিটি করপোরেশনের ভেতরের ইটভাটা, ব্যাপক নির্মাণকাজ, পথের ধারের স্তূপাকার বালু, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ইত্যাদি কারণে ময়মনসিংহের বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। বিষয়টি নিয়ে সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে নগরের একাধিক সচেতন ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, সাধারণভাবেও বোঝা যায় শহরের বাতাস নির্মল নয়। নগরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে বালু ছড়িয়ে আছে। কোনো ভারী যানবাহন বা মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেট কার এসব সড়ক দিয়ে চলাচলের পর এখানে ধুলার মেঘ সৃষ্টি হয়। বহু এলাকায় বাসিন্দারা নির্মাণকাজের জন্য সড়কে বালু ফেলে রাখে। এসব বালুও যানবাহনের কারণে ধুলা হয়ে বাতাসে ভেসে বেড়ায়। অনেক এলাকায় ইট ভাঙার মেশিন দিয়ে সুরকি তৈরি করা হচ্ছে। এ মেশিন থেকেও ইটের ডাস্ট বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরো জানান, এখন ইট তৈরির ধুম পড়েছে। বর্তমানে একাধিক ইটভাটা আছে সিটি করপোরেশন এলাকায়। এগুলো থেকে কালো ধোঁয়া আসছে নগরে। যানবাহনের কারণেও সড়কে ধুলা উড়ছে, ধোঁয়া উড়ছে। বিশেষ করে, পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকার বাতাস সবচেয়ে খারাপ যানবাহনের কারণে।

জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি মনিরা বেগম অনু বলেন, ‘শহরের বাতাসটা যে ভালো না, তা এখন সাদা চোখেও দেখা যায়। কিন্তু এ নিয়ে আমাদের কারোরই কোনো ভাবনা নেই, সচেতনতা নেই।’

ময়মনসিংহের প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাই স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক গোলাম হক বলেন, শহরের বাতাসে ধুলার বিষয়টি নিয়ে এখন অনেক অভিভাবকও চিন্তিত। তাঁদের কেউ কেউ মাস্ক পরে চলাচল করেন।

নগরের বায়ুদূষণ রোধে সিটি করপোরেশন বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিদিনই তারা নগরের বিভিন্ন সড়কে পানি ছিটাচ্ছে।

তবে একাধিক নাগরিক জানায়, বিশাল আয়তনের এ নগরে এখন ওয়ার্ডভিত্তিক পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানীয় কাউন্সিলরদের নিজ নিজ এলাকার সড়কে পানি ছিটানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বিষয়টির তদারকি করতে হবে। সড়কের ধুলা নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। বাড়ির সামনে বালু ফেলার পর তা নাগরিকদের পুরোপুরি অপসারণ করতে হবে। ইট থেকে সুরকি বানানোর মেশিন ইটভাটাতেই কোনো বড় ঘরে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে সুরকি বানাতে হবে। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ফরিদ আহমদ (উপসচিব) বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। সমস্যা সমাধানে তিনি সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ছাড়া অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধেও তাঁরা অভিযান চালাবেন। সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এইচ কে দেবনাথ বলেন, তাঁরা প্রতিদিনই সড়কে পানি ছিটাচ্ছেন। এ কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা