kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

শতভাগ দেশি কর্মীর তৈরি সিম্ফনি মোবাইল ফোন

কয়েক বছরের মধ্যেই রপ্তানির পরিকল্পনা

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শতভাগ দেশি কর্মীর তৈরি সিম্ফনি মোবাইল ফোন

ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার জিরাবোতে এডিসন গ্রুপের একটি কারখানা। ভেতরে প্রবেশের সময় পলিথিন কভারে জুতা ঢেকে নেওয়াটা বাধ্যতামূলক। পোশাক ধুলাবালিমুক্ত করার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা। এসব নিয়ম মেনেই পৌঁছানো গেল কারখানার কেন্দ্রে। সব কর্মীই বাংলাদেশের। চীন থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এখানেই সংযোজন করা হচ্ছে মোবাইল ফোনসেটের স্থানীয় জনপ্রিয় ব্র্যান্ড সিম্ফনির ফিচার ও স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশ।

গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস নয়। ডিসপ্লে স্ক্রিন কতটা ধকল সইতে পারবে এর পেনসিল হার্ডনেস টেস্টসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে প্রস্তুত ফোনসেটগুলো বাজারে ছাড়ার জন্য প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। দেশে আরো কয়েকটি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনসেট সংযোজন করা হচ্ছে। তবে এডিসন গ্রুপের কর্মকর্তাদের দাবি, সিম্ফনিই হচ্ছে ‘ট্রু মেড ইন বাংলাদেশ’।

সম্প্রতি কারখানাটি পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, জিরাবোতে সিম্ফনির এ কারখানা উদ্বোধন করা হয় ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। ওই বছরের ডিসেম্বর থেকেই সিম্ফনি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ফোনসেট বাজারজাত শুরু করে। কারখানায় সব মিলে এখন প্রায় এক হাজার মানুষ কাজ করছেন। তবে আগামী জুনেই কর্মীর সংখ্যা দুই হাজারে পৌঁছে যেতে পারে।

প্রায় ৫৭ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে এ কারখানা বা অ্যাসেম্বলিং প্লান্ট। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে প্রায় ৮ দশমিক ১৬ একর এবং আশুলিয়ায় নিজস্ব এক লাখ ৭২ হাজার ৮০০ বর্গফুট জমির ওপর আরো দুটি কারখানা তৈরি করছে সিম্ফনি। এ তিনটি কারখানায় এখন পর্যন্ত সিম্ফনির খরচ হয়েছে ১০০ কোটি টাকার মতো। উৎপা  দন ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়তে পারে।

সিম্ফনির যাত্রা শুরু হয় ২০০৮ সালে। তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় মানসম্পন্ন মোবাইল ফোনসেট গ্রাহকের হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশের বাজারে উত্থান শুরু হয় সিম্ফনির। প্রকৃত অর্থে ২০১০-১১ সময়টি ছিল সিম্ফনির উত্থানের। এ সময়কালে বিক্রির দিক থেকে দেশের ১ নম্বর ফোনসেটের স্বীকৃতি অর্জন করে সিম্ফনি। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এটি বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম কর্তৃক মোবাইল ফোনসেট ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ব্র্যান্ড নির্বাচিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের শেষ দিকে এসে দেশে স্মার্টফোন উৎপা    দন শুরু করে সিম্ফনি।

এডিসন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া শহীদ জানান, দেশের চাহিদা পূরণ করে সিম্ফনি আগামী ২০২২ সালে মোবাইল ফোনসেট রপ্তানি করবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতের সেভেন সিস্টার্সে এ ফোনসেট রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কায় ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছে সিম্ফনি। তিনি বলেন, ‘দেশে মোবাইল ফোনসেট তৈরির জন্য সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি আমরা। ব্যাটারি, চার্জার, হেডফোন—এগুলো তৈরির কাজও শুরু হয়ে গেছে। সফটওয়্যার ডেভেলপ নিয়েও কাজ করছি।’

বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জাকারিয়া শহীদ বলেন, দেশে প্রতি মাসে স্মার্টফোনের চাহিদা প্রায় ১০ লাখ। এর ৭০ শতাংশই এখন দেশে উৎপা   দিত হচ্ছে। বাকি ৩০ শতাংশের মধ্যে ২৫ শতাংশই অবৈধভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সরবরাহ করছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মোবাইল ফোনসেটের বৈধ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। এ অবস্থার মধ্যেও দেশের বাজারে মাসে এক লাখ থেকে এক লাখ ২৫ হাজারের মতো সিম্ফনি স্মার্টফোনের চাহিদা রয়েছে। এর পুরোটাই সিম্ফনি স্থানীয়ভাবে দিচ্ছে।

কম্পানিটির সিনিয়র ডিরেক্টর মাকসুদুর রহমান জানান, তাঁদের কর্মীদের প্রায় সবাই পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে পাস করে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থী।

এডিসন গ্রুপের অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিরেক্টর (হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) মেজর (অব.) আব্দুল মালেক মিয়াজী, হেড অব সেলস এম এ হানিফ প্রমুখ কারখানা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানান। এম এ হানিফ বলেন, ‘আশা করা যায় আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সিম্ফনি ফিচার ও স্মার্টফোন মিলিয়ে মাসে সাড়ে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ ফোনসেট উৎপা  দন করে বাজারজাত করতে পারব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা