kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সাইবার অপরাধ দিন দিন বাড়ছে

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গত তিন বছরের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে সাইবার অপরাধ দিন দিন বাড়ছে। এ সময়ে পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন বিভাগে সারা দেশ থেকে জমা পড়েছে প্রায় চার হাজার অভিযোগ। কেবল গত তিন মাসে জমা পড়েছে ৮০০-এর বেশি অভিযোগ।

এর পাশাপাশি প্রতিবছরই মামলার সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৭ সালে মামলা বৃদ্ধির হার ছিল ১৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে হয়েছে ৭ শতাংশ আর ২০১৯ সালে সেটি গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশে।

তবে এমনও আছে যে মান-সম্মানের ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ নিয়ে যায় না।

সাইবার অপরাধের যে ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে এসেছে সেটা হলো, দেশের জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড আড়ংয়ের বনানী শাখায় নারী কর্মীদের পোশাক পরিবর্তনের ভিডিও ধারণ। এর শিকার ১১ নারী কর্মীর মধ্যে একজনের অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্ত আড়ংয়ের সাবেক কর্মী সিরাজুল ইসলাম সজীবকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সজীবের ফোন তল্লাশি করে ৩৬টি ভিডিও পাওয়া গেছে, যেগুলো ওই নারী কর্মীদের অজান্তে গোপনে ধারণ করা হয়েছিল।

সর্বশেষ ফেসবুকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গত ২৯ জানুয়ারি এক নারী হাজারীবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর ভিত্তিতে একজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার অপরাধ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই তিন মাসে আট শতাধিক সাইবার অপরাধের অভিযোগ জমা পড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গত ১৩ মাসে মোট দুই হাজার ৯৩২ জন ভুক্তভোগী অভিযোগ নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে এক হাজার ৫৫৩ জন পুরুষ ও এক হাজার ৩৭৯ জন নারী রয়েছে। শতকরা হিসাবে ৫৩ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ শতাংশ নারী।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে ফেসবুক আইডি হ্যাকের শিকার হয়েছে এক হাজার ১১২ জন, যার মধ্যে ৬০৬ জন পুরুষ ও ৫০৬ জন নারী রয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার শিকার হয়েছে ৩৪৯ জন, যার মধ্যে ২৭০ জন পুরুষ ও ৭৯ জন নারী। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ২১৮ জন, যার মধ্যে ৪৫ জন পুরুষ ও ১৭৩ জন নারী। ফেসবুক, মেসেঞ্জারে ভুয়া আইডি দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে ৫১৩ জনকে। এই প্রতারণার শিকার হয়েছে ১৯৫ জন পুরুষ ও ৩১৮ জন নারী। একই বছরে ৩৭ জন ই-মেইল হ্যাকের শিকার হয়েছে। আর ৩২৩ জন পুরুষ ও ২৯১ জন নারী মিলিয়ে অন্যান্য হয়রানির শিকার হয়েছে মোট ৬১৪ জন।

ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগ সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০১৫ সালে সারা দেশে সাইবার অপরাধের দায়ে মামলা হয়েছে ৬৩৮টি, যা ২০১৬ সালে আরো বেড়ে হয়েছে ৯২৩। একইভাবে ২০১৭ সালে এক হাজার ৫৮টি, ২০১৮ সালে এক হাজার ১৩৬টি এবং ২০১৯ সালে মামলা হয়েছে এক হাজার ৪৫৬টি।

এর মধ্যে ২০১৮ সালে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা হয়েছে ১৬০টি এবং ২০১৯ সালে ৮৪৬টি। ২০১৫ সালে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে ২৩২টি, ২০১৬ সালে ২০৬টি, ২০১৭ সালে ২৮০টি, ২০১৮ সালে ৩৭৩টি এবং ২০১৯ সালে ৫৪০টি। আইসিটি অ্যাক্টে ২০১৫ সালে মামলা হয়েছে ৩৬৫টি। একইভাবে ২০১৬ সালে ৬৭৩টি, ২০১৭ সালে ৭৪৮টি, ২০১৮ সালে ৫২২টি এবং ২০১৯ সালে হয়েছে ১২টি মামলা। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০১৫ সালে মামলা হয়েছে ৪১টি। ২০১৬ সালে ৪৪টি, ২০১৭ সালে ৩০টি, ২০১৮ সালে ৮১টি এবং ২০১৯ সালে ৫৮টি মামলা দায়ের হয়েছে।

বিভিন্ন অফিসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হ্যাক করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গত বছর ২২ ডিসেম্বর (নরংংড়ু.পড়স) নামের বাংলাদেশি একটি ওয়েবসাইট হ্যাকড হয়। এ ছাড়া অতি সম্প্রতি এস ইসলাম নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয়। পরে ওই হ্যাকার মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর ফেসবুক ফ্রেন্ড এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছে টাকা দাবি করে। এ ঘটনায় গত ২৬ জানুয়ারি রামপুরা থানায় ডিজিটাল আইনে মামলা করলে জাকারিয়া মোল্লা ওরফে সুমন নামের এক হ্যাকারকে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের এডিসি আশরাফউল্লাহ বলেন, সুমন ‘ব্রাদারস গ্যাং’ নামের একটি হ্যাকার গ্রুপের সদস্য। এই গ্রুপে আন্তত ২৫ জন হ্যাকার আছে। তারা সবাই ছাত্র।

জানতে চাইলে ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দিনে দিনে সাইবার অপরাধ বেড়েই চলেছে। তবে সাইবার অপরাধের অভিযোগ পেলেই দ্রুত খোঁজ নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা