kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

বদলে যাচ্ছে কারাগার

গড়ে তোলা হয়েছে গার্মেন্ট কারখানা

ওমর ফারুক    

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বদলে যাচ্ছে কারাগার

‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’—এই মহতী স্লোগান নিয়ে এগিয়ে যাওয়া দেশের কারাগারগুলো সনাতনি ধারণার বাইরে এসে বন্দিশালার আবহ বদলে এখন সংশোধনাগার হিসেবে রূপান্তরের দিকে এগোচ্ছে। এরই মধ্যে শতাব্দীকালের পুরনো অনেক নিয়মই বদলে ফেলা হয়েছে। মোটকথা কারাগারগুলো কেবল বন্দিশালা নয়, সংশোধনাগার হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। কয়েদিদের দেওয়া হচ্ছে উপার্জনমুখী প্রশিক্ষণ, উন্নত খাবার। এসব ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি সুফল হচ্ছে—ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বন্দিদের হাতে তৈরি পণ্যসম্ভার নিয়ে মনোরম প্যাভিলিয়ন। দেশের বিভিন্ন কারাগারের হাজার হাজার বন্দির নিপুণ হাতে তৈরি হরেক শৌখিন পণ্য ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।

১৭৮৮ সালে ব্রিটিশ আমলে একটি ক্রিমিনাল ওয়ার্ড নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের যাত্রা শুরু হয়। ১৮১৮ সালে রাজবন্দিদের আটকের জন্য বেঙ্গল বিধি জারি করা হয়। ১৮৩৬ সালে জেলা ও তৎকালীন মহকুমা সদর ঢাকা, রাজশাহী, যশোর ও কুমিল্লায় কারাগার নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৮টি কারাগার রয়েছে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর এসে দেশের উন্নয়নের মতো কারাগারেও উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। কারাগারে নতুন ভবন তৈরি, খাবারের মান থেকে শুরু করে মানসিকভাবে বন্দিদের অপরাধপ্রবণতা দূর করতে কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত আইজি প্রিজনস কর্নেল আবরার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দিরা যাতে সংশোধন হতে পারে সে জন্য বিভিন্ন ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’

আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ : কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে রূপান্তরের জন্য কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলছে, যাতে তাঁরা কারাগার থেকে বেরিয়ে গিয়ে কিছু করে খেতে পারেন। কর্মমুখী মানসিকতা গড়ার জন্য করতে হয়েছে কাউন্সেলিং। ফলে তাঁরা নতুন করে আর অপারাধের রাস্তায় পা বাড়াবেন না। কারা সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে এ বছরের নভেম্বর পর্যন্ত দেশের ২৮টি কারাগারে ৩৮ ধরনের কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এতে ৫৩ হাজার তিনজন বন্দি প্রশিক্ষণ নেন। বন্দিদের আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগারে বন্দি পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ স্কুল চালু করা হয়েছে।

পুরুষ ও মহিলা কয়েদিদের তাঁত, রান্না, সেলাই, ইলেকট্রিক অ্যান্ড হাউস অয়্যারিং, লন্ড্রি, বেকারি, নার্সারি, বিউটি পার্লার ও কুটির শিল্পের বিভিন্ন কাজ শেখানো হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ নিয়ে কয়েদিরা কাঠ, বেত, বাঁশ, তাঁত, সুতা ও বিভিন্ন ধরনের উপকরণ দিয়ে তৈরি করছেন ছোট-বড় মোড়া, চেয়ার, ঝুড়ি, বাঁশের দোলনা, কলমদানি ও বেতের ঝুড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক ব্যাবহারিক সামগ্রী।

বাণিজ্য মেলায় কারা পণ্য : গত বছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সাড়া ফেলেছিল কারা পণ্য অর্থাৎ কয়েদিদের তৈরি পণ্য। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পূর্ণাঙ্গ গার্মেন্ট কারখানাই চালু করা হয়েছে। ‘কারা গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি’ নামের এ পোশাক কারখানায় দুই শিফটে ৩০০ বন্দি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

খাবারে পরিবর্তন : বর্তমানে বন্দিদের খাবারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাঁদের সকালের নাশতায় প্রতিদিনের আটার রুটি আর আখের গুড়ের পরিবর্তে সপ্তাহে দুই দিন খিচুড়ি, এক দিন হালুয়া রুটি ও চার দিন সবজি রুটি দেওয়া হচ্ছে। গত মে মাসে সরকারের তরফ থেকে রমজান মাসে ইফতারি বাবদ বরাদ্দ ১৫ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকায় উন্নীত করা হয়। বন্দিদের এক কারাগার থেকে আরেক কারাগারে পাঠানোর সময় তাঁদের ১৬ টাকার খাবারের পরিবর্তে ১০০ টাকার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা