kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

বাবার আর্তনাদ

মেয়েটি শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মেয়েটি শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে

“মাত্র কথা বলা শিখছে আমার মেয়েটা। ভাঙা ভাঙা শব্দে অনেক কথা বলে। এক, দুই, তিন গুনে। তারপর আমাকে বলতে হয়, আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। মেয়েটি বাংলাদেশকে বলে ‘বান্দাদেশ’। ঘটনার পর থেকে শুধু আমাদের মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। খুব কান্নাকাটি করে। ও তো কখনো রান্নাঘরে যেত না। চোখের পলকে সেদিন সেখানেই (রান্নাঘরে) গেল।” অশ্রুমিশ্রিত চোখে কথাগুলো বলছিলেন শেখ সামাওয়া জাহরি সরৌশীর বাবা শেখ গোলামুন্নবী জায়েদ। রান্নাঘরে একটি পাত্রে রাখা গরম পানিতে দুই বছর চার মাস বয়সের ওই শিশুর শরীরের ৩৩ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পানি অতিরিক্ত মাত্রায় গরম থাকায় শিশুটির গায়ের চামড়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটি এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি রয়েছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সরৌশীর বাবা বলেন, ‘আমার তুলতুলে একটা মেয়ে ছিল। এখন মেয়েটাকে দেখে আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। এটা মানা যায় না। মানতে পারছি না। সব কিছু সৃষ্টিকর্তার হাতে ছেড়ে দিয়েছি।’

সরৌশীর বাবা ও মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি বিকেলে সরৌশীর মা ঋদি মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় মায়ের অজান্তে রান্নাঘরে যায় সরৌশী। সেখানে রাখা গরম পানির গামলা নিয়ে খেলা করতে গেলে গরম পানি তার শরীরে এসে পড়ে। শিশুটির বাবা বলেন, ‘কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে গেছে ঘটনাটা। ঘটনার পর প্রথমে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পরে গত রবিবার রাতে তাকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করানো হয়। সরৌশী বর্তমানে চিকিৎসক প্রদীপ চন্দ্র দাসের অধীনে চিকিৎসাধীন।

সরৌশীর বাবা শেখ গোলামুন্নবী জায়েদ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ২৪-এর প্রতিবেদক এবং সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কর্মরত। মা ওরিন নাশিদ ঋদি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক। চাকরি সূত্রে শেখ গোলামুন্নবী ঢাকায় থাকেন। স্ত্রী ওরিন নাশিদ ঋদি থাকতেন কর্মক্ষেত্র চট্টগ্রামে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শেখ গোলামুন্নবীর বেসরকারি ওই টেলিভিশনটির চট্টগ্রাম অফিসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু এর মধ্যেই দুর্বিষহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা