kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

ঢাকায় এক চীনা নাগরিক হাসপাতালে

মুন্সীগঞ্জে দুজনের মৃত্যু নিয়ে করোনাভাইরাস আতঙ্ক!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকার একটি হাসপাতালে এক চীনা নাগরিক ভর্তি হওয়া এবং মুন্সীগঞ্জে একই পরিবারের দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় হঠাৎ করেই গতকাল সোমবার করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এর কোনোটিরই পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট সম্পন্ন হয়নি। ফলে আসলে তাঁরা ঠিক কী রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হাসপাতালে জ্বর-সর্দি-কাশিসহ ভাইরাল উপসর্গ নিয়ে চীনের একজন নাগরিক গতকাল দুপুরে ভর্তি হয়েছেন। ওই চীনা নাগরিক গত ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ এসেছেন। চিকিৎসকরা তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তবে ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাস বহন করছেন কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কালের কণ্ঠকে জানিয়েছে, আইইডিসিআরকে তারা বিষয়টি জানিয়েছে।

আইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা শুনেছি ওই হাসপাতালে একজন চীনা নাগরিক ভর্তি হয়েছেন। আমরা তাঁর স্যাম্পল কালেকশন করব। তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলা যাবে তিনি করোনাভাইরাস বহন করছেন কি না। এর আগে কিছুই বলা সম্ভব নয়। তবে এটা নিয়ে কোনো ধরনের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’

এদিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে মাত্র ১৭ ঘণ্টার ব্যবধানে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চাচি ও ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা করোনাভাইরাসজনিত কি না এই সন্দেহে এলাকায় অনেকের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, লৌহজংয়ের মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নের যশলদিয়া গ্রামে অসুস্থতাজনিত কারণে রবিরার সকাল পৌনে ৯টায় মারা যান মীর জুয়েলের স্ত্রী শামিমা বেগম (৩৩)। এ ঘটনার মাত্র ১৭ ঘণ্টার ব্যবধানে রবিবার দিবাগত রাত ২টায় জুয়েল মীরের ভাতিজা ও মীর সোহেলের সাড়ে তিন বছরের ছেলে আব্দুর রহমানেরও মৃত্যু হয়। একই পরিবারের দুজন সদস্য পর পর মারা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শামিমার দেবর মীর শিবলু জানান, তাঁর ভাবি গত রবিবার সকালে জ্বর জ্বর ভাব অনুভব করেন। আস্তে আস্তে জ্বর কিছুটা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশে চাক চাক রক্তের দাগ দেখা যায়। এরপর মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর রবিবার রাতে তাঁর ভাই মীর সোহেলের শিশুপুত্র আব্দুর রহমান একইভাবে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যে মারা যায়। তার শরীরেও রক্তের চাক চাক দাগ দেখা যায়। বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জানানো হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনা গতকাল লৌহজংসহ পুরো মুন্সীগঞ্জে ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কেউ কেউ এর সঙ্গে সরল হিসাব মেলাচ্ছেন করোনা ভাইরাসের। কারণ নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুতে অনেক চীনা নাগরিক কাজ করছেন। আর জশলদিয়া পদ্মা সেতু এলাকার খুব কাছের জায়গা। তাই সত্যাসত্য নিশ্চিত না হয়েই এ ভাইরাস চীনাদের মধ্য থেকে ছড়াতে পারে বলে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে।

এ ব্যাপারে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার কামরুল হাসান পাটোয়ারী বলেন, ‘ঘটনাটি শোনামাত্র আমরা সেখানে ছুটে যাই এবং জানতে পারি, দুজনেরই জ্বর হয়েছিল এবং সারা শরীরে গোটা গোটা রক্ত জমাট বেঁধে যায়। এটি কোন রোগের লক্ষণ আমরা তা এখনো নির্ণয় করতে পারিনি। তবে রোগের বর্ণনাসহ এর আলামত ঢাকার মহাখালীর আন্তর্জাতিক রোগতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট এলে বলা যাবে কী রোগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি কোনো ভাইরাসজনিত জ্বর।’

লৌহজং উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রাসেদুজ্জামান মৃতদের বাসায় গিয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে আসেন। তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জ ও লৌহজং থেকে চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যাবে কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এটি নিয়ে শঙ্কিত ও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, নমুনা সংগ্রহের জন্য রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) একটি টিম সোমবার রাতেই মুন্সীগঞ্জের পথে রওনা করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছি। পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। তবে এখন যেহেতু নিপা ভাইরাসের সিজন চলছে, সেদিক থেকে আমরা নিপা ভাইরাসের বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা