kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

ছয় মাসে আইসিবির লোকসান ১৫০ কোটি টাকার বেশি

গত অর্থবছরের এই সময়ে লাভ হয় ৪৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা
‘সরকারি তহবিল যত্রতত্র বিনিয়োগে ডুবছে প্রতিষ্ঠানটি’

রফিকুল ইসলাম   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছয় মাসে আইসিবির লোকসান ১৫০ কোটি টাকার বেশি

বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও পুঁজিবাজার উন্নয়নে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বাজার টেনে তোলার বদলে নিজেই ডুবতে বসেছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি লোকসান দিয়েছে ১৫০ কোটি টাকার বেশি। অথচ আগের অর্থবছরের একই সময়ে সামগ্রিক ব্যয় এবং কর পরিশোধের পরও প্রতিষ্ঠানটি ৪৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের দাবি, পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখতে গিয়েই এ লোকসান। এটা সাময়িক, কেটে যাবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারে মন্দা অবস্থার কারণে লোকসানে পড়েছে আইসিবি। শেয়ার কেনাবেচা থেকে ক্যাপিটাল গেইন ও অন্যান্য আয় কমে যাওয়ায় লোকসানের মাত্রা বেড়েছে। স্টেকহোল্ডারদের অভিযোগ, সরকারি তহবিল বাছবিচার ছাড়াই যততত্র বিনিয়োগের সিদ্ধান্তের কারণে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি।

সর্বশেষ গত ২ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পর্ষদের সভায় আইসিবির পাশাপাশি পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে বিডিবিএলকেও সেকেন্ডারি শেয়ার মার্কেটে সাপোর্ট দিতে পর্যাপ্ত তবহিল সরবরাহ ও যথাযথ বিনিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বিশাল অঙ্কের লোকসানের বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দিতে গিয়ে শেয়ার ধরে রাখতে হয়েছে। এ জন্য শেয়ার কেনাবেচা থেকে আয় হয়নি। কারণ হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করলে বাজার আবার পড়ে যাবে।’

আইসিবির এমডি আরো বলেন, ‘পুঁজিবাজারের মূল্যসূচক যখন বেশি ছিল, তখন ইচ্ছামতো শেয়ার কেনাবেচা করেছি। ঋণ কম ছিল। কিন্তু এখন শেয়ার বিক্রি করতে পারছি না বিধায় ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। পুঁজিবাজারে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। বর্তমানের লোকসানটা সাময়িক। শেয়ার কেনাবেচা হলেই আবারও মুনাফা বাড়বে। এ নিয়ে আমি চিন্তিত নই।’

গতকাল সোমবার পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক বা ২০১৯-২০ অর্থবছরের অর্ধবার্ষিকে অনিরীক্ষিত হিসাবে আইসিবির প্রতি শেয়ারে লোকসান হয়েছে ১ দশমিক ৯৬ টাকা। ৭৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের রাষ্ট্রায়ত্ত কম্পানিটির শেয়ার রয়েছে ৭৬ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩৫৯টি। সে হিসাবে সদ্য শেষ হওয়া অর্ধবার্ষিকে আইসিবির লোকসান দাঁড়ায় ১৫০ কোটি ৪১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ছয় মাসে দুই প্রান্তিকের মধ্যে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি লোকসান হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে আইসিবির লোকসান হয় ১৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান হয়েছে ১৬ কোটি ১১ লাখ টাকা।

প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, পুঁজিবাজার থেকে লভ্যাংশ, শেয়ার কেনাবেচা থেকে ক্যাপিটাল গেইন, ফি, কমিশন ও সার্ভিস চার্জ এবং অন্যান্য পরিচালন আয়ে ধস নেমেছে। ২০১৮ সালের একই সময়ে আইসিবির মুনাফা হয়েছিল ২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে বড় লোকসানে পড়েছে আইসিবি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ঋণাত্মক হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি শেয়ারে লোকসান হয়েছে শূন্য দশমিক ২১ টাকা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল শূন্য দশমিক ২০ টাকা।

ছয় মাসের আর্থিক হিসাবে ডিএসই বলছে, সমন্বিত হিসাবে প্রতি শেয়ারে লোকসান হয়েছে ১ দশমিক ৯৬ টাকা। যদিও ২০১৮ সালে একই সময়ে প্রতি শেয়ারে আয় ছিল শূন্য দশমিক ৫৭ টাকা। শুধু মুনাফাই কমেনি, আইসিবির শেয়ারপ্রতি সম্পদের (এনএভি) পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে শেয়ার সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৪৩ টাকা, যা ২০১৮ সালে ছিল ৪০ দশমিক ৫২ টাকা।

এ বিষয়ে আইসিবি বলছে, ঋণে সুদের হার বৃদ্ধি ও মূলধন মুনাফা কম হওয়ায় আয় কমেছে। আর তালিকাভুক্ত কম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ পোর্টফোলিও কমে গিয়ে শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য কমে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা