kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

না বলে হাসপাতাল ছেড়েছেন গার্মেন্টের সেই নারী কর্মী

জামালপুর প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাভারের আশুলিয়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে পিকআপে উঠার পর গণধর্ষণের শিকার জামালপুরের সেই পোশাক কারখানার নারী কর্মী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই বাড়ি ফিরে গেছেন। গতকাল সোমবার সকালে স্বজনরা তাঁকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যায়।

গতকাল রাতে ওই নারীর মায়ের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি তাঁর মেয়ের ঘটনা নিয়ে এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে চাননি। তবে ওই নারীর অন্য এক স্বজন বলেন, হাসপাতালে পুলিশ, সাংবাদিক ও মানুষের নানা কথার জবাব দিতে দিতে অসহ্য হয়েই তাঁরা বাড়িতে চলে গেছেন। বাড়িতেই চিকিৎসা করাবেন। তাঁরা গরিব মানুষ। ঘাটাইল থানায় দৌড়ঝাঁপ করে তাঁদের পক্ষে মামলা চালানো সম্ভব নয়। মান-সম্মানের ভয়ও আছে।

ওই নারী সাভারের আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার কর্মী। গত বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া থেকে জামালপুরে রওনা হওয়ার পর গাজীপুরের চান্দরা এলাকায় পিকআপে উঠার পর ধর্ষণের শিকার হন।  গত শুক্রবার সকালে টাঙ্গাইল থেকে উদ্ধারের পর শনিবার স্বজনরা তাঁকে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

তবে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে জামালপুর সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসাধীন ওই নারীকে পাওয়া যায়নি। ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সেবিকারা জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে শারীরিক পরীক্ষার কথা বলে স্বজনরা রোগীকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর ওয়ার্ডে ফেরেননি।

হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেলের কর্মকর্তা পাপিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গতকাল সকালে ইলেকট্রোলাইট নামের একটি পরীক্ষার কথা বলে স্বজনরা তাঁকে নিয়ে যান। এই পরীক্ষার ব্যবস্থা হাসপাতালে নেই। কিন্তু পরবর্তীতে ওই নারী ও তাঁর স্বজনরা আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি। পরে জানতে পেরেছি, তাঁরা না বলে হাসপাতাল ছেড়েছেন।’

জামালপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফেরদৌস হাসান এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাল (মঙ্গলবার) সকালে ওয়ার্ডে রোগী দেখার সময় চিকিৎসক যদি ওয়ার্ডের বিছানায় ওই নারীকে অনুপস্থিত দেখতে পান, তাহলে তাঁকে পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। রোগীর স্বজনরা কাজটি ঠিক করেনি। কারণ ওই নারীর শরীর খুবই দুর্বল এবং তিনি ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না। উঠে দাঁড়ানোর শক্তিও নেই তাঁর শরীরে। কয়েক দিন হাসপাতালে থাকলেই সুস্থ হয়ে উঠতেন।’

ওই নারীর ব্যাপারে জামালপুর সদর থানা থেকেও কিছু বলতে পারছেন না। জামালপুর সদর থানার ওসি মো. সালেমুজ্জামান গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমিও শুনেছি যে হাসপাতাল থেকে ওই নারী চলে গেছেন। তাঁর স্বজনদের বলেছিলাম ঘাটাইলে গিয়ে মামলা দায়ের করতে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা