kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

আবাসন সংকট ও সেশনজট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পরিবহন ও আবাসন সংকট নিরসন, সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁরা কলা ভবন ও বিজ্ঞান ভবনেও তালা দেন। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে লিখিত না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। আজ সোমবারও তাঁরা একই কর্মসূচি পালন করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উজ্জ্বল কুমার প্রধান সন্ধ্যায় জানান, উপাচার্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই দাবিগুলো পূরণ করবেন। মার্চের মধ্যেই ১০ তলাবিশিষ্ট হল দুটির কাজ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের থাকা এবং আগামী সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোযুক্ত একটি বাসের ব্যবস্থা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়ন বিষয়ে পরে প্রশাসন থেকে লিখিত দেওয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে জয় বাংলা চত্বরের সামনে দীর্ঘসময় অবস্থান নেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচর্যের বাংলোর সামনে অবস্থান নেন তাঁরা। অবস্থানকালে তাঁরা ‘জেগেছে তারুণ্য, জাগাবে জোয়ার’, ‘পরিবর্তন আসবেই এইবার’, ‘যদি থাকে একতা, বিশ্ববিদ্যালয় হবে তোমার আমার’, ‘নামছি আজকে মাঠে আমরা’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান এক বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি নিজস্ব বাস আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ ছাড়া তিনি মসজিদ, মন্দির, মিলনায়তন ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, চলমান ১০ তলাবিশিষ্ট দুটি হলের কাজ সম্পন্ন করাসহ অনেক কিছু প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনোটিই বাস্তবায়ন করতে পারেননি। হল দুটির কাজ দুই বছর আগে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে হল ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোযুক্ত অন্তত পাঁচটি বাস (দুটি ডাবল ডেকারসহ) বরাদ্দ দিতে হবে, এক সপ্তাহের মধ্যে মসজিদ ও মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও দ্রুত সময়ের মধ্যে সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস করতে হবে।

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আন্দোলন : এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল আমিনের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ তদন্ত কমিটি বাতিলের দাবিতে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা দুুপুরে তালা ঝোলানো প্রশাসনিক ভবন গেটে ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১৫-১৬ (এমবিএ) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি কোর্সে ক্লাস নিয়েছিলেন মো. রফিকুল আমিন। তিনি ২০১৮ সালে ওই কোর্সে মিডটার্ম পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্ট না নিয়ে মার্ক দেন বলে গত ১ আগস্ট উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন কোর্সের শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ১৩ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটির বোর্ড হওয়ার কথা ছিল। পরে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তদন্ত স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা