kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শিশুটির সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় সবাই

ভৈরবে ভিক্ষুকের কাছে নবজাতক রেখে নারী লাপাত্তা

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘নিষ্ঠুর মা নাকি তোকে রেখে পালিয়ে গেছে। তুই মেয়ে হয়ে জন্মেছিস বলে? নাকি তোর নিষ্ঠুর পিতা চায়নি তুই পৃথিবীতে আসবি। আশ্চর্য! তোকে নাকি এখনো কেউ একবারও কাঁদতে দেখেনি। তুই ঠিক বুঝে গেছিস এখন আর তাদের জন্য কেঁদে কী হবে, যাদের একটুও বুক কাঁপেনি তোকে শীতের মধ্যে রাস্তায় রেখে যেতে। ভালো থাকিস। হয়তো তোর জন্য অজানা সুন্দর ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’

ভৈরবে ভিক্ষুকের কাছে এক নবজাতক রেখে নারীর পলায়নের ঘটনায় শিশুটিকে নিয়ে আবেগঘন এ লেখাটি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন ভৈরবের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হীমাদ্রী খীশা। শুধু তিনি নন, শিশুটির সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট অন্যরাও। ফেসবুকে শিশুটির ছবি শেয়ার করে অনেক মানুষ দোয়া করছে। অনেক দম্পতি তাকে দত্তক নিতে চাইলেও গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষায় রেখেও কোনো আদেশ দেননি কিশোরগঞ্জ আদালতের বিচারক।

জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শীতের মধ্যে বাস থেকে নেমে এক নারী তাঁর কোলের শিশুটিকে এক ভিক্ষুকের কাছে দেন। টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে ওই নারী আর ফিরে আসেননি। সদ্যোজাত শিশুটি ওই নারীর কী হয় তাও জানা যায়নি। খবর পেয়ে ভৈরবের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। তাত্ক্ষণিক চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন শিশুটির স্বাস্থ্যও ভালো।

শিশুটির ঠিকানা নিশ্চিত করতে ভৈরব থানার জিডির পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. মহসিন গতকাল রবিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ আদালতে আবেদন করেন। তিনি শিশুটির নিরাপদ হেফাজতের জন্য সমাজসেবা অফিস পরিচালিত ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত ছোটমণি নিবাসে পাঠানোর আবেদন করেন। তবে কিশোরগঞ্জ-২ (ভৈরব, কুলিয়ারচর ও বাজিতপুর)-এর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আনিসুল ইসলাম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিষয়টি আদেশের অপেক্ষায় রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো আদেশ দেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা