kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা

জিয়া যুদ্ধ করেননি, মোশতাকের সঙ্গে শুধু ষড়যন্ত্র করেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনায় সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে কোথাও যুদ্ধ করেননি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় খুনি মোশতাকের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁরা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি পুলিশ-আমলা-প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধরার দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে এ আলোচনা হয়। এতে অংশ নেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য (এমপি) মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, ফরিদুল হক খান, মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন, মোসলেম উদ্দিন ও এ কে এম ফজলুল হক এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সম্প্রতি মিজানুর রহমান আজহারী ও তারেক মনোয়ার নামের দুজন ব্যক্তির যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষ নিয়ে ওয়াজ মাহফিলে দেওয়া হুমকির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, প্রকাশ্য আদালতে রাজাকার সাঈদীর বিচার হয়েছে, বিচারে তাঁর শাস্তি হয়েছে। এখন কিছু লোক হুমকি দিয়ে বলছে, ঘরে ঘরে সাঈদী বেরিয়ে আসবে। একজন বলছে, এখন তীর-ধনুকের যুগ না, একে ফোরটিসেভেনের যুগ। এটি প্রকাশ্য হুমকি। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিএনপির এমপিদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, জেনারেল জিয়া কখনোই স্বাধীনতার ঘোষক নন, পাঠক মাত্র। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান কোথায় যুদ্ধ করেছেন? একটা জায়গা বিএনপির নেতারা দেখান। তিনি কোথাও যুদ্ধ করেননি, শুধু ষড়যন্ত্র করেছেন খুনি মোশতাকের সঙ্গে। মুজিবনগর সরকারের কাছে ষড়যন্ত্র ধরা পড়ার পর মোশতাককে মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়। আর জিয়াউরকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়।

মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, বিএনপিতে দুটি ধারা—রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক। বাণিজ্যিক ধারার নেতৃত্ব দেন এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে কারাগারে সাজা ভোগ করা খালেদা জিয়া এবং দুর্নীতি করে লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানরা। রাজনৈতিক ধারায় রয়েছেন বিভিন্ন দল থেকে আসা দলছুট নেতারা। এঁদের দিয়ে দেশের উন্নতি হয়নি, হবেও না।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। সরকার কেন তা বন্ধ করতে পারছে না? ২৫টি ব্যাংকের পরিচালকরা ছয় থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন, আর তাঁরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা। চার লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে কানাডায়। তিনি বলেন, ‘ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু দুর্নীতিও হচ্ছে। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছিল, কিন্তু কেন তা বন্ধ করা হলো। ক্যাসিনোকাণ্ড কি শুধু রাজনীতিবিদরা করেছেন? এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ জড়িত নেই? শুধু যুবলীগের সম্রাট জড়িত? অন্য কেউ জড়িত নেই? জড়িত সবাইকে ধরতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা