kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডাক্তারদের ফি নির্ধারণে নীতিমালা প্রণয়নের চিন্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক সংসদে জানিয়েছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং চেম্বারে ডাক্তারদের রোগী দেখা বাবদ ফি আদায়ের বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের চিন্তাভাবনা চলছে। যোগ্যতা ও পদমর্যাদা অনুযায়ী জেনারেল প্র্যাকটিশনার থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লেভেল পর্যন্ত সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য রোগী দেখার ভিজিটের হার নির্ধারণ করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের সদস্য (এমপি) গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ কথা জানান। প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী আরো জানান, বাংলাদেশে তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর এক লাখ ৬১ হাজার জনের মৃত্যু হয়। তামাকজনিত রোগব্যাধি ও অকালমৃত্যুর কারণে দেশে প্রতিবছর ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

সরকারি দলের এমপি বেগম শামসুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক ১৫ লাখের বেশি নারী ও পুরুষ এবং ৬১ হাজারের বেশি শিশু আত্মঘাতী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এসব রোগ থেকে রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যানবাহন, রেলস্টেশন ও জনসমাবেশস্থলে এবং গণপরিবহনে ধূমপান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার লক্ষ্যে তিনি একটি ঘোষণা দিয়েছেন। এরই মধ্যে এসডিজি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণে নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করেছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করতে জেলা ও উপজেলায় ৩২১ জন স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, ২০১৯ সালে মিটফোর্ডসহ দেশে নকল-ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই হাজার ১৪৫টি মামলা করে ১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, ৩৯ জনকে কারাদণ্ড, ৪৪টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছেন। প্রায় ৩১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার নকল-ভেজাল ওষুধ জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। ৪৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা মূল্যের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করা হয়। গত বছর এ কারণে ৪১টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল, তিনটি প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের ওষুধ উৎপাদন স্থগিত এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৯টি ওষুুধের উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া মানবহির্ভূত হওয়ায় ৯টি ওষুধের নিবন্ধন বাতিল ও ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি (ডিসিসি) দ্বারা ৯৯টি জেনেরিক ওষুধ বাতিল করা হয়েছে।

বিএনপির রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ৭০টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। এসব কলেজ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিএমডিসি সময়ে সময়ে পরিদর্শন করে। এ ছাড়া মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১১ (সংশোধিত) অনুযায়ী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার মান মনিটর করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা