kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

দুর্নীতির মামলা

এনু চার দিনের রিমান্ডে

ক্যাসিনো খালেদের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ক্যাসিনো কাণ্ডের হোতা রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক ভূইয়া ওরফে এনু ভূইয়াকে চার দিনের রিমান্ডে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের মামলায় ক্যাসিনো খালেদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এসব আদেশ দেন।

গতকাল রিমান্ড শুনানিতে এনু ভূইয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী গত মঙ্গলবার এনুর সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। গতকাল শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, দেশে ক্যাসিনো কারবার চালুর মূল হোতা এনু ভূইয়া ও তাঁর ভাই রুপন ভূইয়া। নেপালিদের মাধ্যমে দুই ভাই বিদেশ থেকে ক্যাসিনো সরঞ্জাম নিয়ে আসেন। তারপর তা সারা ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্যাসিনো কারবারের মধ্য দিয়ে দুই ভাই আঙুল ফুলে কলাগাছ হন। গত সেপ্টেম্বরে তাঁদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয়। দুজনের ২২টি বাড়ি রয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসেবে ১৯ কোটি টাকারও সন্ধান পাওয়া গেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ তাঁরা নামে-বেনামে জমা করেছেন। বিদেশেও অর্থ পাচারের তথ্য রয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অর্থ পাচারের আরো তথ্য উদ্ধার ও তাঁদের সহযোগীদের নাম-ঠিকানা জানার জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

এনু ভূইয়ার বিরুদ্ধে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় গত ১৪ জানুয়ারি তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাসিনোবিরোধী ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথমে র‌্যাব-৩-এর একটি দল সূত্রাপুর থানাধীন কাঠেরপুল লেনের ৩১ নম্বরের ছয়তলা বাড়িতে অভিযান চালায়। এটি এনু ও রূপনদের মূল বাড়ি। ভবনটির তিন ও পাঁচতলার ফ্ল্যাটে তৈরি ভল্টের ভেতর থেকে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা, আট কেজি স্বর্ণালংকার ও পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে র‌্যাব খবর পায়, তাঁদের আরো টাকা ও অস্ত্র আছে নারিন্দার দুটি বাড়িতে। এরপর ৮২/১ নারিন্দার লালমোহন স্ট্রিটে এনুর কর্মচারী আবুল কালাম ওরফে কালার ফ্ল্যাট থেকে দুই কোটি টাকা ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই বিকেলে শরত্গুপ্ত রোডের ২১/১/এ নম্বর দোতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে একটি লকার থেকে দুই কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়। এ বাড়ির মালিক হারুনুর রশীদ হচ্ছেন এনুর বন্ধু। অবৈধভাবে কামানো বিপুল টাকা ব্যাংকে না রেখে নিজেদের কাছে রাখার জন্য তাঁরা ৬৯৭ কেজি ওজনের একটি ভল্ট বানিয়েছিলেন। এ ছাড়া আরো চারটি ভল্ট ছিল দুই ভাইয়ের, যেগুলোতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিল। তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাদক দ্রব্যও উদ্ধার করা হয় ওই সময়।

এসব ঘটনায় দুই ভাই ও তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও মানি লন্ডারিং আইনে গেণ্ডারিয়া থানায় তিনটি মামলা হয়। এদিকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

ক্যাসিনো খালেদের জামিন নামঞ্জুর : এদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ওরফে ক্যাসিনো খালেদের জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। গতকাল তাঁর জামিনের আবেদন করা হয়। আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। পাঁচ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা এই মামলায় আগেও কয়েকবার জামিন নামঞ্জুর করা হয়। বিভিন্ন ব্যাংকে খালেদের ৩৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। খালেদের বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব লেনদেন স্থগিত (ফ্রিজ) করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা