kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে মাদক কারবার

ডিএনসিসির ওয়ার্ড ৪, ১৪ ও ১৬ কাফরুল থানা

এস এম আজাদ    

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ভাই যেই এলাকার কমিশনারের পোলা মাদক কারবার করে, আশপাশের লোকজন করে, নেতাদের নামে স্পট চলে, হেই এলাকার মাদক কী আর যায়! এহন একটু চিপায় হয় আরকি! সন্ধ্যার পর এই এলাকায় যারা আইয়ে, ইয়াবা খাইতেই আইয়ে...।’

রাজধানীর কাফরুলের বাইশটেকি এলাকার এক বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে তাঁর আক্ষেপের কথা এভাবেই বলেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ভূমি সহকারী কমিশনারের (এসি ল্যান্ড) অফিসের কাছে সাইদের বস্তি নামে পরিচিত একটি জায়গা দেখিয়ে তিনি জানান, সেখানে যারা ঘোরাফেরা করছিল, তাদের কেউ মাদক ক্রেতা, কেউ বিক্রেতা। গাঁজার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল দেয়ালের পাশ থেকে। স্থানীয় লোকজন জানায়, আগে এসি ল্যান্ড অফিস ও সাইদের বস্তিতে প্রকাশ্য আখড়া ছিল। বর্তমানে কিছুটা কমেছে। তবে এলাকাটি ঘিরে এখনো ভাসমান কারবারিরা মাদক বাণিজ্য করছে। একসময় বিএনপির দলীয় কাউন্সিলর রফিকুল ইসলামের ভাই সাইদের নিয়ন্ত্রণে ছিল জায়গাটি। এ কারণে নাম হয় সাইদের বস্তি। সেখানে বহুতল ভবনও ছিল। বর্তমানে কয়েকজন প্রভাবশালী ওই স্থান দখলে নিয়ে স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে।

কাফরুল থানার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে বাইশটেকির মতো চিত্র আরো পাওয়া গেছে। সরেজমিনে ঘুরে এবং এলাকাবাসীর তথ্যমতে, এখনো এসব এলাকার প্রধান সমস্যা মাদক। আগের মতো প্রকাশ্য আখড়া না থাকলেও গোপনে চলছে মাদক কারবার। কাউন্সিলরসহ রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ অনেকে এই কারবারে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জামাল মোস্তফার ছেলে রফিকুল ইসলাম রুবেলের তত্ত্বাবধানে চলছিল এই মাদক কারবার। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ থাকলেও আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে এবার কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল মোস্তফা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ইব্রাহিমপুরের সৃজনী সড়কে সুলতানা বেগম, তাঁর ছেলে নিশাত, দেবর বিপ্লব এবং তাঁদের সহযোগীরা ইয়াবা কারবার চালান। সুলতানা ক্ষমতাসীন দলের এক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

কাফরুলের কাজীপাড়ায় হারুন মোল্লা, বাদশা মিয়া, বাবুল মিয়া, আল-আমিন, মাহমুদুর রহমান রিপন ওরফে ফেনসি রিপন, সেলিমসহ কয়েকজন মাদক কারবার করছে। মিরপুর ১৪ নম্বর মোড়সংলগ্ন খালের দুই পারে গড়ে ওঠা বাগানবাড়ী বস্তিতে ইয়াবা কারবার নিয়ন্ত্রণ করেন তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি বাচ্চু মিয়া। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা।

পশ্চিম কাফরুলের তালতলা এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী জোত্স্না বেগম কাফরুল ও শেরেবাংলানগর থানা এলাকায় কারবার করছেন। দক্ষিণ কাফরুলের চামাইরা বাবু ও নিক্সন গার্মেন্টের তরুণী কর্মীদের দিয়ে ইয়াবা কারবার চালান। ইব্রাহিমপুরের আশি দাগ এলাকায় রুম্মান ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন।

কাফরুল থানার ওসি সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘এখন আগের মতো মাদক স্পট ও কারবারি নেই। কিছু যে আড়ালে হয় না, তা বলব না। অনেকে বখাটেদের আড্ডাকে মাদকের আড্ডা বলে অভিযোগ দেয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা