kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্রিফিং

বাংলাদেশ এখনো নিরাপদ তবে ঝুঁকির বাইরে নয়

♦ ৭ বন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা জোরদার
♦ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার প্রতি নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন দিনে চীন থেকে আসা ৯০০ জন যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। তাদের মধ্যে দুজনকে আলাদা করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কারো শরীরেই করোনা ভাইরাসের নমুনা শনাক্ত হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার উদ্যোগে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্রিফিংয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও সিনিয়র লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা এবং রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বুধবার পর্যন্ত চীনে ১৭ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ পাওয়া গেছে। তবে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত নিরাপদ আছে। তবে ঝুঁকির বাইরে নয়। সে জন্যই বিমানবন্দরসহ সব বন্দরে হেলথ স্ক্রিনিং (স্বাস্থ্য পরীক্ষা) ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নতুন ভাইরাস সম্পর্কে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, ভাইরাস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধের জন্য রোগ প্রতিরোধসংক্রান্ত প্রচারণা, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরসহ দেশের সাতটি প্রবেশপথে ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে আক্রান্ত দেশ থেকে আগত যাত্রীদের স্পর্শ না করে জ্বর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা, চিকিৎসা কাজে স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রোগ প্রতিরোধী পোশাক মজুদ রাখা, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরসহ কোয়ারেনটাইন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা, বিমানের ভেতরের আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য বিমানের ক্রুদের মাধ্যমে যাত্রীদের মধ্যে হেলথ ডিক্লারেশন ফরম ও প্যাসেঞ্জার লোকেটের ফরম বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা ও জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য ভাইরাস প্রতিরোধসংক্রান্ত গাইডলাইন প্রস্তুত এবং দ্রুত যোগাযোগের জন্য সিডিসি এবং আইইডিসিআরে মোট চারটি হটলাইন প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চীনসহ কয়েকটি দেশে সংক্রমিত নতুন করোনা ভাইরাস (২০১৯ এন-কভ) মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। এ ছাড়া অনেক ধরনের করোনা ভাইরাস উটসহ বিভিন্ন পশু, বিড়াল ও বাদুরের মধ্যে দেখা যায়। প্রাণীদেহে সংক্রমিত করোনা ভাইরাসগুলো সাধারণত মানুষকে আক্রান্ত করে না। চীনের উহান শহরে শনাক্তকৃত বেশির ভাগ রোগী শহরের একটি সামুদ্রিক খাবার ও পশুর বাজার থেকে আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবায় যাঁরা নিয়োজিত আছেন তাঁদের কেউ এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে কমিউনিটিগুলোতে অন্য কেউ আক্রান্ত হয়নি।

ব্রিফিংয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগের উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলা হয়, এই ভাইরাস সীমিত আকারে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ হতে পারে। এখন পর্যন্ত এই রহস্যজনক ভাইরাসে ১৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছে, তার মধ্যে তিনজন মৃত্যুবরণ করেছে। ১৯৮ জন আক্রান্ত ব্যক্তির সবাই চীনের হুবেই প্রদেশের অন্তর্গত উহান শহর থেকে আক্রান্ত হয়েছে। ভ্রমণজনিত কারণে থাইল্যান্ডে দুই ও জাপানে একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যারা চীনের উহান শহরে ভ্রমণ করেছিল।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষ্মণের মধ্যে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি থাকার কথা বলা হয়েছে।

ভ্রমণসংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানিয়েছে, যেহেতু ভাইরাসটি সম্পূর্ণ নতুন এবং এর ভয়াবহতা ও বিস্তার সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জানা এখনো সম্ভব হয়নি, তাই ভ্রমণকালীন বিশেষ করে চীন থেকে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ থেকে চীনে ভ্রমণকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকার জন্য স্বাভাবিক শ্বাসতন্ত্রের প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে কমপক্ষে দুই হাত দূরে থাকতে হবে। বারবার প্রয়োজনমতো সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা, বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে কিংবা সংক্রমণস্থল ভ্রমণ করলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা