kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

ডিএনসিসির ১৫ নম্বর ওয়ার্ড : ভাসানটেক থানা

বাইরে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছে কারবারিরা

সর্বনাশা মাদক

এস এম আজাদ   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীর ভাসানটেক বস্তির বায়তুল হামদ মসজিদের পাশেই মোর্শেদা বেগমের তিনটি ঘর। এই শীর্ষ মাদক কারবারি কয়েক বছর ধরেই এলাকার বাইরে। তবে ওই বাড়িকে কেন্দ্র করে মোর্শেদার শ্বশুর শামছু মিয়ার তত্ত্বাবধানে রতন বেপারি নামে এক ব্যক্তি ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও গাঁজার কারবার চালাচ্ছেন। ওই সরু গলির কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, মোর্শেদা এখন থাকেন গাজীপুরে। তবে এই মাদক কারবারি সশরীরে না থেকেও বহাল আছেন। পরিচিত লোকজন এসে মোর্শেদার খোঁজ করলেই রতন মাদক সরবরাহের ব্যবস্থা করেন।

রাজধানীর অন্যতম মাদকের আখড়া হিসেবে চিহ্নিত ভাসানটেক এলাকা ঘুরে জানা গেছে, মোর্শেদার মতো আরো বেশ কয়েকজন শীর্ষ মাদক কারবারি এখন এলাকায় থাকেন না। তাই বলে তাঁদের তৎপরতা থেমে নেই। সহযোগীদের মাধ্যমে তাঁরা বস্তি এলাকার বালুরমাঠ, টোনারটেক সংযোগস্থল, পিআরপি, কচুক্ষেত, বারনটেক, মাটিকাটা এলাকায় মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভাসানটেক থানা এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত। এই ওয়ার্ডে বিশেষত বস্তিকেন্দ্রিক মাদকের বিস্তার অন্যতম সমস্যা হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরেই। ১ নম্বর বস্তি ও সাগরিকা বস্তিতে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিলের বড় কারবারি মোর্শেদা ও তাঁর সহযোগীরা।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য মতে, পাঁচ বছর ধরে এলাকায় থাকছেন না মোর্শেদা। প্রথমে মিরপুর এবং পরে গাজীপুরে চলে যান তিনি। বিশেষ অভিযান শুরুর পর তাঁর আখড়া প্রকাশ্যে কিছুটা সীমিত হয়ে পড়ে। তবে সহযোগী রতন বেপারির মাধ্যমে তিনি ঠিকই মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভাসানটেকে টেকনাফ কানেকশনে ইয়াবা এনে বাউনিয়ার ডি-ব্লকে বড় চালান নিয়ে যান মজনু নামের এক কারবারি। ঢাকা-টেকনাফ রুটে গ্রিন লাইন বাসের চালক এই মজনু ভাসানটেক বস্তি ও বাউনিয়া দুই স্থানেই থাকেন। আর ৪ নম্বর বাস্তুহারা এলাকার সালাম ইয়াবার বড় ডিলার। তিনি এখন উত্তরায় থাকলেও মোল্লারটেক গুদারাঘাট এলাকায় তার সহযোগীরা মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় দুই মাদকসেবী পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে জানান, ভাসানটেকে তিনটি এলাকায় তিন কারবারির সহযোগীরা বেশি সক্রিয়। মামুন হোসেন ওরফে স্ট্যাম্প মামুনের সহযোগীরা সক্রিয় পুরো বস্তিতেই। দুই বছর আগে গ্রেপ্তারের পর জামিনে ছাড়া পেয়ে মামুন উত্তরায় বসবাস করছেন। তাঁর বড় ভাই হাজি জহির আহমেদ এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী। রাতে এলাকায় এসে ভাইয়ের সমর্থনে কর্মিসভাও করছেন মামুন।

বস্তির বালুরমাঠ এলাকার আরেক মাদক কারবারি বাবলু। তাঁর ছোট ভাই সুজনও মাদক কারবারে জড়িত বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। মাটিকাটা এলাকায় মাদকের কারবার চালাচ্ছে রুপচান ও তাঁর সহযোগীরা। তাঁর অন্যতম সহযোগীদের একজন মানিক।

ভাই মাদক কারবারে জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আসন্ন সিটি নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হাজি জহির আহমেদ বলেন, ‘আমার ভাই আগে খারাপ ছেলেদের সঙ্গে চলে কিছু খারাপ কাজ করেছিল। আত্মসমর্পণ করে সে এখন ভালো হয়ে গেছে। মামলাগুলোও এখন নেই। এখন তাকে অন্য এলাকায় কাজে লাগিয়ে দিয়েছি। সে এখন এসব করে না।’

ডিএনসিসি নির্বাচনে বিএনপির স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী অধ্যক্ষ লিয়াকত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখছে। আমি নির্বাচিত হলে অভিভাবকসহ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেব।’

একাধিক সূত্র জানায়, ২ নম্বর বস্তিতে ল্যাংড়া বাদল, ১ নম্বর বস্তিতে আবুল বাশার জঙ্গি ও তাঁর সহযোগী আনোয়ার হোসেন, কুমিল্লাপট্টিতে কাউন্সিলর কার্যালয়ের পেছনে নাগর চেয়ারম্যানের ছেলে মনির ও তাঁর সহযোগীরা মাদক বিকিকিনি করছে। এ ছাড়া টেকপাড়া টিনশেড এলাকায় আলমগীর হোসেন, মাসুদ রানা ও ফরহাদ শিকদারের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এই তিনজনই আবার স্বেচ্ছাসেবক লীগের থানা পর্যায়ের নেতা।

মাদক কারবারিদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ভাসানটেক থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল আবেদীন ও পিআরপি ৩ নম্বর এলাকার নূর হোসেন খানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের কারণে কমিউনিটি পুলিশ থেকে বহিষ্কার করা হয় নূর হোসেনকে।

স্থানীয় লোকজন বলছে, মাদকের স্পটগুলো আগের মতো প্রকাশ্যে সক্রিয় না থাকলেও ভাসমান বিকিকিনি চলছেই। শ্রমিক লীগ নেতা আজিজুল হক ওরফে কালা বাবুল, তাঁর বোন হেলেনা আক্তার, ভগ্নিপতি হাবিবুর রহমানের সহযোগীরা এই কারবারের নিয়ন্ত্রক। এই মাদক কারবারি পরিবারটিও এলাকাছাড়া। এদিকে ধামালকোট এলাকার মাদক বিক্রেতা স্বপ্না গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছুদিন কারবার বন্ধ ছিল। এখন তাঁর সহযোগীরা সক্রিয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা