kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

চকরিয়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

শ্রীবরদীতে নাতনি অন্তঃসত্ত্বা, নানা আটক
আরো দুই স্থানে সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণ ও গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রেমিকাকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেরপুরের শ্রীবরদীতে নানার ধর্ষণে নাতনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে সাবেক স্ত্রীকে ধর্ষণ ও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

চকরিয়া : ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বালুরচর এলাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের খামারবাড়িতে গত রবিবার বিকেলে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর বড় বোন। গত সোমবার আটক হওয়া প্রধান অভিযুক্ত বেলাল উদ্দিন বালুরচর গ্রামের বাসিন্দা। আরেক অভিযুক্ত তারেকুর রহমান টিটু চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের ছেলে।

মামলার বাদী ও পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর বাড়ি খুটাখালী ইউনিয়নে। তিনি চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। গত রবিবার বিকেলে তিনি চট্টগ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে টমটমযোগে ডুলাহাজারা স্টেশনে যান। সেখানে তিনি বাসে উঠার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন মোটরসাইকেলে আসা দুজন এবং ইজি বাইকে থাকা বেলাল উদ্দিন ও চালক তাঁকে ইজি বাইকে তুলে খামারবাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ‘আমার এক অবাধ্য সন্তান তারেকুর রহমান টিটুও এই ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত। এর আগে সে (ছেলে) ইয়াবা কারবারে জড়িত হওয়ায় তাকে পুলিশে দিই।’

শ্রীবরদী : কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের ঘটনায় মাদরাসাছাত্রীটি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (৬০) আটক করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন শ্রীবরদী থানার ওসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার। ভুক্তভোগী ও তার মা জানান, পাঁচ-ছয় মাস আগে ছাত্রীটির সঙ্গে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে প্রেমিক তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি। একদিন ছাত্রীর চাচাতো নানা তার প্রেমিককে বিয়েতে রাজি করাতে তাকে (নাতনি) তেলপড়া দেওয়ার কথা বলে তাঁর গোয়ালঘরে নিয়ে যান। সেখানে তিনি নাতনিকে নাকে-মুখে তেলপড়া দিয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করেন। এভাবে কয়েক দিন তিনি নাতনিকে ধর্ষণ করেন।

হাওরাঞ্চল : মোহনগঞ্জে মাদরাসার এক ছাত্রীকে (কিশোরী) প্রেম করে বিয়ের পর তালাক দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে কলেজছাত্র সাইমন হোসেন ওরফে রানার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে ওই ছাত্রী মোহনগঞ্জ থানায় মামলাটি করে। সাইমন মোহনগঞ্জ পৌর শহরের রাউৎপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছানাউল্লাহ্র ছেলে ও নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

পুলিশ ও ছাত্রীটির পরিবার জানায়, প্রায় দুই বছর আগে অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে সাইমন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তারা দুজন পালিয়ে গিয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করে। কিন্তু সাইমনের পরিবার বিয়েটি না মেনে তাদের দুজনকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। স্বামী-স্ত্রী আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে কয়েক মাস কাটায়। পরে সাইমন তার বাবার কথামতো স্ত্রীকে গত ১১ এপ্রিল নেত্রকোনা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাক দিয়ে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। দেন-দরবার করেও বিষয়টির সমাধান করা যায়নি। গত শনিবার রাতে সাইমন মেয়েটিকে আবার বিয়ে করার কথা বলে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) : গত ৫ জানুয়ারি নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত আরশ আলীর (৩২) বিরুদ্ধে গত সোমবার হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৩-এ মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। আরশ আলী বাউসার দেবপাড়া বাঁশডর গ্রামের জাহির আলীর ছেলে। আরশ মামলাটি তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন বলে বাদীর অভিযোগ।

কালিয়াকৈর : গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া রহিম মিয়া (৪০) কালিয়াকৈর উপজেলার বাগচাপাইর সীমারপাড় এলাকার মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গত ৪ ডিসেম্বর বিকেলে স্কুলছাত্রীকে মজা খাওয়ানোর কথা বলে নিজ বাড়ির টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রহিম মিয়া। তখন ছাত্রীটির চিৎকারে তার মা এগিয়ে গেলে রহিম মিয়া পালিয়ে যান। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা কালিয়াকৈর থানায় মামলা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা