kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বইছে শৈত্যপ্রবাহ, বিস্তৃতির শঙ্কা

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায়, ৭.২ ডিগ্রি
শীতজনিত রোগে ৮০ দিনে আক্রান্ত চার লাখ ১১ হাজার, মৃত্যু ৫৭

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বইছে শৈত্যপ্রবাহ, বিস্তৃতির শঙ্কা

আবার বেড়েছে শীত, বইছে শৈত্যপ্রবাহ। শীতের তীব্রতার চিহ্ন লেগে ছিল কাপড় শুকানোর এই দড়িতেও। গতকাল ভোরে পঞ্চগড়ের হাফিজাবাদ এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে। আজ বুধবার তা আরো কয়েকটি জেলায় বিস্তার লাভ করতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। গতকাল মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ২ ও টেকনাফে সর্বোচ্চ ২৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে নতুন করে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি বিশেষত উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জনগণ নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছে। ৮০ দিনে সারা দেশে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মারা গেছে কমপক্ষে ৫৭ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, তাপমাত্রা উঠা-নামার মাঝেই বেড়ে চলেছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। গত ১ নভেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছে সরকারি হিসাবেই ৫৭ জন।

আবহাওয়া অফিস জানায়, রংপুর বিভাগসহ মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর ও চূয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তা অব্যাহত থাকতে পারে এবং বিস্তার লাভ করতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। পূর্বাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার জানান, গতকাল সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টা দেশের ২৯৬টি উপজেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো চার হাজার ২৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৯৩৩, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত দুই হাজার আট এবং শীতজনিত অন্যান্য রোগে আকান্ত দুই হাজার ৯১২ জন।

বিশেষজ্ঞরা শীতজনিত রোগ থেকে রক্ষায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া, ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলা, গরম কাপড় ব্যবহার করা, ঠাণ্ডা পানি পরিহার করা, গরম খাবার খাওয়া ও প্রয়োজনমতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, চলতি শীত মৌসুমে বেশির ভাগ সময়েই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকছে উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে। গত সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় তেঁতুলিয়ায়। গতকাল তা নেমে আসে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা সারা দেশে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত দুই দিনে জেলার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধানও মারাত্মকভাবে কমে এসেছে। এ জন্য প্রচণ্ড ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। সঙ্গে চেপে বসেছে ঘন কুয়াশা। দিনের বেলাতেও যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। কষ্ট বেড়েছে চা শ্রমিক, পাথর শ্রমিক, দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষের। হাসপাতালগুলোতে রয়েছে শীতজনিত রোগীর ভিড়।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, চলমান মাঝারি মাত্রার এই শৈত্যপ্রবাহ আরো কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। 

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি জানান, তীব্র শীত আর হিমেল বাতাস লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী উপজেলা পাটগ্রামের দরিদ্র খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল সারা দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

শীতের কারণে সবজি ক্ষেতে পচন দেখা দিয়েছে। উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর সরকারটারী গ্রামের কৃষক নুর মোহাম্মাদ বাউরাল্লি ও নবীনগর রেলগেট এলাকার কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে আলু, টমেটো ও বাঁধাকপিতে পচন দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গাফ্ফার বলেন, প্রচণ্ড শীতের কারণে বিশেষত আলু ক্ষেতে ছত্রাক সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এ জন্য ক্ষেতে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রংপুর অফিস জানায়, গতকাল রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বাতাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ আর্দ্রতা কাছাকাছি আসায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আরো দু-এক দিন স্থায়ী হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

গতকাল রংপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে জনপদ। রাস্তাঘাট ও হাট-বাজারে জনসমাগম খুবই কম। চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টির মতো কুয়াশাপাত হচ্ছে। বিপাকে পড়েছে দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, জেলায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া কার্যালয়ের আবহাওয়া সহকারী লোকমান হাকিম এই তথ্য জানিয়ে বলেন, মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। ২৬ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস এ হায়াত বলেন, গতকাল পর্যন্ত জেলায় ৫২ হাজার কম্বল ও  দুই হাজার ৫৭৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ছয় উপজেলায় শীতবস্ত্র কেনার জন্য দুই লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা