kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সপ্তাহে চার দিনই ‘ছুটির আমেজ’

বাজিতপুরের বিভিন্ন সরকারি অফিস

নাসরুল আনোয়ার, হাওরাঞ্চল   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সপ্তাহে চার দিনই ‘ছুটির আমেজ’

সরকারি ছুটি সপ্তাহে দুই দিন। কিন্তু কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসে ছুটির আমেজ বিরাজ করে চার দিন। বিশেষ করে, কর্মকর্তারাই বিধি-বিধান না মেনে অলিখিত এ ‘ছুটি’ ভোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর কারণ সম্পর্কে জানা যায়, এখানকার বেশির ভাগ সরকারি কর্মকর্তা উপজেলা সদরে থাকেন না। তাঁদের একটি বড় অংশ কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে থাকে। অনেকেই থাকেন ঢাকায়।

কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁদের আসতে আসতে বিকেল হয়ে যায়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকালে স্বাক্ষর করেই অফিস ত্যাগ করেন কেউ কেউ। 

গত রবিবার বাজিতপুর উপজেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করেন এ প্রতিবেদকসহ এক দল সাংবাদিক। এই দেড় ঘণ্টা বিভিন্ন দপ্তরে অনেক কর্মকর্তারই দেখা মেলেনি।

সকাল ১০টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ ছিল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেনের কার্যালয়। সেখানকার এক কর্মচারী জানালেন, আফজাল হোসেনের বাসা বাজিতপুরেই। এ বিষয়ে আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ফিল্ড ভিজিটে ছিলাম।’ কোথায় ভিজিট করেছেন—এমন প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস খোলা ছিল। কর্মচারীরাও ছিলেন। কিন্তু উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অফিসে আসেননি। দেরি করে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটু কাজ ছিল, তাই অফিসে আসতে দেরি হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খন্দকার জাহাঙ্গীর হোসেন অফিসে আসেননি সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্তও। অফিস সহায়ক এগিয়ে এসে বললেন, ‘স্যার ঢাকায় আছেন, বিকেলে আসবেন।’ পরে জাহাঙ্গীর হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি।’

সকাল ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত দেখা মেলেনি বিআরডিবি কর্মকর্তার। সকাল ১০টা ১২ মিনিট পর্যন্ত তালা ঝুলছিল উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যালয়ে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে কারো দেখা মেলেনি সকাল ১০টা ৯ মিনিট পর্যন্ত। মত্স্য কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে অফিসে না আসায় তাঁদের সাক্ষাৎ মেলেনি।

জানা গেল, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রশিক্ষণের কাজে কর্মস্থলের বাইরে আছেন। ১০টা ২৭ মিনিটে হিসাবরক্ষণ অফিসের এক কর্মচারী বলেন, ‘স্যার চলে আসবেন।’ দুপুরে মোবাইল ফোনে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকী দাবি করেন, তিনি সকাল সোয়া ৮টায় অফিসে এসেছেন!

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হায়দার আলী সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটেও অফিসে আসেননি। দুপুরে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

কর্মকর্তাদের দেরি করে অফিসে আসার কারণ জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপ্তিময়ী জামান বলেন, পিআইও ছাড়া আর কোনো কর্মকর্তা সরাসরি তাঁর অধীনস্থ নন।

জেলা প্রশাসক সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরীর সঙ্গে প্রসঙ্গটি নিয়ে কথা হলে তিনি জানতে চান, কোন কোন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের কাছ থেকে নাম জানার পর জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আপনার পত্রিকায় লিখে দিন।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা