kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

পাহাড়ে নতুন ‘বাদুড়গুহা’

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাহাড়ে নতুন ‘বাদুড়গুহা’

বাদুড়গুহার প্রবেশমুখ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এবার নতুন আবিষ্কার ‘বাদুড়গুহা’। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে গুহার পাশে রয়েছে একটি ঝরনা। তবে খানিকটা বুনো পথ ধরে পাহাড়ি ছড়া ও ঝরনা বেয়ে গুহা পর্যন্ত পৌঁছার পথটি কিছুটা কষ্টকরই হবে। তাই অ্যাডভেঞ্চার যাদের পছন্দ, সেই সব পর্যটকের কাছে এ গুহা দর্শন হবে আনন্দের।

পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় লুকিয়ে আছে অবাক করা অনেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দুর্গম এলাকা এবং মানুষের যাতায়াত না থাকার কারণে যা এখনো আমাদের আজানা। এ রকমই একটি গুহার খোঁজ পাওয়া গেছে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রথীচন্দ্র কার্বারীপাড়ার দুর্গম এলাকায় গুহাটির অবস্থান। স্থানীয় ত্রিপুরাদের ভাষায় ‘তাবাক্ষ’। তাবা অর্থ ‘বাদুড়’ আর ক্ষ অর্থ ‘গুহা’। বাংলা ভাষায় বাদুড়গুহা। এখন যদিও গুহার ভেতর বাদুড় অনেক কম; কিন্তু একসময় এ গুহায় ঝাঁকে ঝাঁকে বাদুড়ের দেখা মিলত। এ জন্য স্থানীয় ত্রিপুরারা গুহাটির নাম দিয়েছে তাবাক্ষ বা বাদুড়গুহা।

গুহা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, এর প্রবেশমুখের পাশেই এক দল তরুণ রান্না করছে। তারা সবাই গুহা দেখতে এসেছিল খাগড়াছড়ি শহর থেকে। তরুণ কান্তি ত্রিপুরা জানান, গুহাটি অসাধারণ সুন্দর, এর ছাদ প্রায় ৩০ ফুট উঁচু, যা দেখে মনে হবে কোনো কারিগর নিখুঁত হাতে পাকা করে রেখেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুহার প্রস্থ প্রায় তিন ফুট। গুহার ভেতর প্রবেশ করে প্রায় ১৭০ ফুট যাওয়া হয়েছে। এরপর মাঝপথে একটি পাথর রয়েছে। গুহা দেখতে যাওয়া বোয়ালখালী বাজার এলাকার অজিত বড়ুয়া (৩৮) জানান, গুহার প্রবেশমুখের আগেই একটি ঝরনা। এর পাশ দিয়ে নেমে যাওয়া পাহাড়ি লতা ধরে বেয়ে বেয়ে নামতে হয় ঝরনায়, যা এক অসাধারণ অনুভূতির সৃষ্টি করে। আর গুহাটিও নিঃসন্দেহে অনেক সুন্দর। এত বেশি উচ্চতার গুহা আর কোথাও আছে কি না, সন্দেহ। আরেক পর্যটক হীরেন্দ্র কুমার ত্রিপুরা (৩৫) জানান, নতুন করে আবিষ্কৃত হলেও গুহাটি অসাধারণ সুন্দর। গুহায় যেতে হয় খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের নয়মাইল ত্রিপুরাপাড়া এলাকার পাশ দিয়ে। অন্যদিকে তৈদুছড়া ঝরনায়ও যেতে হয় একই পাড়ার পাশ দিয়ে।

রথীচন্দ্র কার্বারীপাড়ার কার্বারী (পাড়াপ্রধান) গুণধর ত্রিপুরা জানান, গুহার পথে এক কিলোমিটারের কম কাঁচা সড়ক, সেটিতে ইটের সলিং করলে আরো ভালো হবে। এরপর হাঁটাপথ মাত্র ১০-১৫ মিনিটের, তাই পর্যটকদের সময় ও কষ্টও অনেক কম হবে। কিন্তু ঝরনার পাশ দিয়ে লতা বেয়ে নামতে হয়, যে কারণে নারী বা শিশুদের সেখানে যাওয়া সম্ভব হবে না।

যেভাবে যাওয়া যাবে গুহায় : খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ঠিক মধ্যবর্তী এলাকা আটমাইলের পাশেই দীঘিনালা-খাগড়াছড়ির সীমান্ত সাইনবোর্ড। এর পাশ দিয়েই পূর্ব-দক্ষিণ দিকে চলে গেছে ইটের সলিং সড়ক। এ সড়ক দিয়ে ছয় কিলোমিটার যেতে হবে, যাওয়া যাবে জিপ (চাঁদের গাড়ি) বা মোটরসাইকেলে করে। পৌঁছাবেন রথীচন্দ্র কার্বারীপাড়ায়, যেখানে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বাস। সেখান থেকে আরো এক কিলোমিটার কাঁচা সড়কে যাবে গাড়ি। এরপর পাহাড় বেয়ে হেঁটে নামতে হবে মেরুং ছড়ায়। ছড়া দিয়ে কিছুদূর এগোলেই মিলবে ঝরনা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা