kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

অবশেষে বুধবার উদ্বোধন হচ্ছে ই-পাসপোর্ট

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে বুধবার উদ্বোধন হচ্ছে ই-পাসপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবনে ই-পাসপোর্টের জন্য ই-স্বাক্ষর প্রদান করেন। ছবি : পিআইডি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে। দেশের নাগরিকরা আগামী বুধবার থেকে পেতে যাচ্ছে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু করতে যাচ্ছে। সারা বিশ্বে ১১৯তম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল রবিবার সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আগামী ২২ জানুয়ারি, বুধবার ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। আর প্রথম ই-পাসপোর্ট পাবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।’

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস উত্তরা, যাত্রাবাড়ী এবং বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস আগারগাঁও থেকে এ কার্যক্রম চালু করা হবে। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে ৭২টি আঞ্চলিক ও বিভাগীয় অফিসে এবং ৮০টি বৈদেশিক মিশনে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম চালু হবে। আর ই-পাসপোর্টে ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে প্রচলিত এমআরপিগুলোকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিস্থাপিত না করা পর্যন্ত এমআরপির ব্যবহারও চলমান থাকবে।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘২০২০ সালের মধ্যেই দেশের সব কেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট প্রদান কার্যক্রম চালু হবে। বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৫ হাজার পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে। ই-পাসপোর্টের মাধ্যমে মেশিনে একজন ব্যক্তির প্রকৃত তথ্য মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে যাচাইয়ের সুবিধা রয়েছে। পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে এ কাজ করছে।’

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ই-পাসপোর্টের চিপে পাসপোর্টধারীর বায়োগ্রাফিক ও বায়োমেট্রিক তথ্যাদি সিল্ড অবস্থায় সুরক্ষিত থাকবে। ডিজিটাল সিগনেচার প্রযুক্তির সাহায্যে ই-গেটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ডে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পাসপোর্টধারীর প্রকৃত তথ্য ও ফেসিয়াল রিকগনিশন যাচাই করা যাবে।

পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বলা হয়, কিছুদিন আগে বই সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। এখন সেই সংকট নেই। ঠিক সময়ে পাসপোর্ট দেওয়া যাচ্ছে। আর ই-পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে।

যেভাবে পাওয়া যাবে : ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইনে অথবা পিডিএফ ফরমেট ডাউনলোড করে পূরণ করা যাবে। এতে কোনো ছবি বা কাগজপত্র সত্যায়নের প্রয়োজন নেই। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদপত্রসহ মা-বাবার এনআইডির কপি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনপত্র গ্রহণের সময় হাতের ১০ আঙুলের ছাপ, ছবি ও চোখের আইরিশ ফিচার নেওয়া হবে। আবেদন করার বিস্তারিত নিয়মাবলি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে। তবে সেটিও অনলাইনে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতি জরুরি ক্ষেত্রে ই-পাসপোর্ট করার জন্য প্রি-পুলিশ ভেরিফিকেশন নিজ উদ্যোগে করে নিয়ে যেতে হবে।

মেয়াদ, বিতরণের সময় ও ফি : সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান জানান, ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য সাধারণ ফি (১৫ দিন) সাড়ে তিন হাজার, জরুরি (সাত দিন) সাড়ে পাঁচ হাজার এবং অতি জরুরি (দুই দিন) সাড়ে সাত হাজার টাকা। আর ১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্টের জন্য সাধারণ ফি পাঁচ হাজার, জরুরি সাত হাজার ও অতি জরুরি ৯ হাজার টাকা। ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সাধারণ ফি সাড়ে পাঁচ হাজার, জরুরি সাড়ে সাত হাজার ও অতি জরুরি সাড়ে ১০ হাজার টাকা। আর ১০ বছরের জন্য সাধারণ সাত হাজার, জরুরি ৯ হাজার ও অতি জরুরি ১২ হাজার টাকা। সব ফির সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা