kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রথম আলো সম্পাদককে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

ঐক্যফ্রন্ট, সাংবাদিক সংগঠন বিশিষ্টজনদের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশসহ দেশের বিশিষ্টজনরা।

গতকাল শনিবার রাতে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের ছয় নেতা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মামলাটি দায়েরের আগে-পরে এ বিষয়ে যেভাবে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বক্তব্য দিয়েছেন এবং এই মামলায় প্রথম আলো সম্পাদককে যেভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, তাতে মামলাটি আমাদের কাছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়েছে।’ আরো বলা হয়, ‘এই মামলায় সমন জারি করে বিচারকাজ পরিচালনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগকে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। দেশে বাক্স্বাধীনতার ওপর একের পর এক যেসব আঘাত আসছে, তা থেকে মামলাটিকে পৃথক করে দেখার কোনো অবকাশ নেই।’ বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘এই মামলায় প্রথম আলো সম্পাদকসহ সব অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিপূর্ণ আইনগত প্রতিকার ও সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার অবারিত রাখাতে হবে।’ বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রুদ্ধ করার চেষ্টা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী অন্যরা হলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নূরুল আমিন বেপারী।

এর আগে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির করায় উদ্বেগ জানিয়ে বিশিষ্টজনদের পাঠানো এক বিবৃতিতেও একই কথা বলা হয়।

এদিকে গতকাল শনিবার বিএফইউজে ও ডিইউজের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দেশের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র প্রথম আলোর সহযোগী প্রকাশনা কিশোর আলোর একটি অনুষ্ঠানে বিদ্যুতায়িত হয়ে কলেজছাত্র আবরারের দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনায় পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমান, সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনা অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়। কলেজছাত্র আবরারের মৃত্যুর ঘটনা মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। আমরা চাই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুতে সত্যিকারের কোনো অবহেলা ও দায় থাকলে তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু ঘটনার পর সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে যেভাবে বক্তব্য ও নির্দেশনা এসেছে তাতে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি পত্রিকাটির বিরুদ্ধে আক্রোশ প্রকাশ পেয়েছে।’

বিএফইউজের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজের একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম এই বিবৃতির মাধ্যমে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং সম্পাদক-সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সব ধরনের মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার, নিপীড়ন ও হয়রানির পথ পরিহারের আহ্বান জানান।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতি

গতকাল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়ার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম যেন সঠিক পদ্ধতি মেনে চলে, সেটি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সরকারকে সম্ভাব্য সব সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সরকারকে অবশ্যই সংযম প্রদর্শন করতে হবে, যেন বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কোনো বাধা না আসে।’

মন্তব্য