kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শিকলবন্দি শাকিল পেল নতুন বাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিকলে বন্দি প্রতিবন্ধী শাকিলের অবশেষে নতুন বাড়ি হয়েছে। শরীয়তপুরে নিজ গ্রামে নতুন বাড়ি পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত শাকিল ও তার মা হনুফা বেগম। মানবিক এ কাজটি করেছে ‘সাইলেন্ট হ্যান্ড সাপোর্ট’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন। গত শুক্রবার শাকিলের মায়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ির দলিলপত্র বুঝিয়ে দেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।

এই পাওয়া শাকিল ও তার মায়ের কাছে স্বপ্নের মতোই মনে হচ্ছে। এক বছর আগেও শাকিলের দিন কাটত রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুরে কবরস্থানের কাছে ফুটপাতে। ফুটপাতে পথচারী পারাপারের সাইনবোর্ডের খুঁটি ও পায়ের সঙ্গে লাগানো শিকলই ছিল শাকিলের সারা দিনের সঙ্গী। এভাবেই চলছিল এক বছর।

শাকিলের বাবা মারা গেছেন ১৬ বছর আগে। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের পালংয়ের দক্ষিণ কেবলনগরে। গ্রামে এক মামা আর ঢাকায় এক খালা ছাড়া কেউ নেই শাকিলের। মা হনুফা বেগম মানুষের বাসায় কাজ করার পাশাপাশি কাগজ ও বোতল কুড়িয়ে যা আয় করতেন তা দিয়ে শাকিলের ওষুধ ও কোনো রকমে সংসার চলত। মা কাজে গেলে ফুটপাতে শিকলে বাঁধা থাকত শাকিল।

একদিন এই দৃশ্য চোখে পড়ে অনার্সপড়ুয়া এক তরুণীর। যিনি অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাঙালিদের সহায়তায় পরিচালিত সাইলেন্ট হ্যান্ড সাপোর্ট নামের সংগঠনের সদস্য। তাঁর সংগঠন তখনই প্রতিবন্ধী শাকিল ও তার মায়ের পাশে দাঁড়ায়। পরে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের, নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ও সহকারী কমিশনার জিনিয়া জিন্নাতের সহযোগিতায় দক্ষিণ কেবলনগরে সরকারি খাসজমির ২৬ শতাংশ জায়গা শাকিলের মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করানো হয়। একই সঙ্গে তার মায়ের নামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে বিত্তবানদের কাছে শাকিলের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান নিয়ে গেলে মানুষের দান-সহযোগিতার অর্থ সংগ্রহ করে তাদের জন্য একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়। মোটরচালিত গভীর নলকূপ, রান্নাঘর ও বাথরুমের ব্যবস্থাও করে সংগঠনটি। শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে দলিলপত্রসহ বাড়িটি শাকিলের মায়ের কাছে হস্তান্তর করলে বেশ উচ্ছ্বাস ও খুশি প্রকাশ করেন হনুফা বেগম। নতুন বাড়ি পেয়ে উচ্ছ্বসিত শাকিলও।

মন্তব্য