kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাটাই দ. ইউনিয়ন

‘রাজমিস্ত্রি’কে ছাত্রলীগ সভাপতি করায় ১৩ নেতার পদত্যাগ

‘যাঁকে সভাপতি করা হয়েছে তিনি সম্পূর্ণ অশিক্ষিত ও পেশায় রাজমিস্ত্রি’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি দানিছুর রহমান বাবুকে রাজমিস্ত্রি অবিহিত করে তাঁর সঙ্গে রাজনীতি করায় অনীহা জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন ওই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ‘অধিকাংশ’ নেতা। কমিটি গঠনের দুই সপ্তাহ পর গতকাল শনিবার কমিটি থেকে পদত্যাগ করে তাঁরা বিষয়টি জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের অবহিত করেছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কাছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিও পাঠিয়েছেন।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি দানিছুর রহমান বাবুকে সভাপতি ও মেহেদী আলম আরিফকে সাধারণ সম্পাদক করে নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ২৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী খাইরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম রায়হান এ কমিটি ঘোষণা করেন।

এই কমিটির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম রোমান, নজরুল ইসলামসহ ১৩ নেতা গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, আহ্বায়ক কমিটি কিংবা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই রাতের আঁধারে পকেট কমিটি গঠন করা হয়। যাঁকে সভাপতি করা হয়েছে তিনি সম্পূর্ণ অশিক্ষিত ও পেশায় রাজমিস্ত্রি।

ঘোষিত কমিটিতে সহসভাপতি পদে থাকা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করতে। কিন্তু কাউকে কিছু না বলেই হুট করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়, এমনকি লেখাপড়া না জানা একজন রাজমিস্ত্রিকে সভাপতি করায় সবার মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।’

পদত্যাগী সহসভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। স্থানীয় সংসদ সদস্য র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর নেতৃত্বে আমরা কোনো পদ ছাড়াই কাজ করে যাব। রাজমিস্ত্রির সঙ্গে থেকে আমরা ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে পারি না।’

এ বিষয়ে দানিছুর রহমানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাঁর মোবাইল ফোন নম্বরে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, দানিছুর স্নাতক শ্রেণিতে পড়ছেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম রায়হান বলেন, স্থানীয় কোন্দলের কারণে এখন এসব কথা বলা হচ্ছে। আর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী খাইরুল আলম বলেন, পদ না পেয়ে এখন এসব কথা বলা হচ্ছে।

তবে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন শোভন বলেন, সভাপতি যদি লেখাপড়া জানা লোক না হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। আর জেলা সভাপতি মো. রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, ‘ওই ইউনিয়নের কমিটি করতে জেলা ছাত্রলীগের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য