kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মেয়র আসে-যায়, ফাঁকে পড়ে ‘সড়ক শৃঙ্খলা’

১২১ বাস স্টপেজ অকার্যকর, কম্পানিভিত্তিক বাস চালুতেও গতি নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেয়র আসে-যায়, ফাঁকে পড়ে ‘সড়ক শৃঙ্খলা’

ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আসে, শেষ হয়। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যা ঝুলেই থাকে। সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনার ‘পরি’ উড়ে থেকে যায় ‘কল্পনা’। মেয়র আসে, মেয়র যায়, সমস্যার সুরাহা হয় না। এমন একটি সমস্যা সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা। বুয়েটের দুর্ঘটনা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুসারে, ঢাকার সড়কে প্রাণহানির মধ্যে অর্ধেকের বেশিই পথচারী।

২০০৫ সালে ঢাকার কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় বাস চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে কম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল প্রবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছিল। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ঢাকায় সাড়ে চার হাজার বাস আমদানি করে এ ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করেছিলেন। তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আটকে পড়ে। শেষে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের জেরে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে এ দায়িত্ব পড়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের ওপর। তাঁকে এবার প্রার্থী করা হয়নি। কম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার কাজও সেভাবে এগোয়নি কিংবা এগোচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।

বাস স্টপেজের বাইরে বাস থামায় চলন্ত বাসে ছুটে উঠতে গিয়ে যাত্রীদের প্রাণহানি, অঙ্গহানি হচ্ছে। বাসের চাকায় পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ যাত্রী, পথচারীদের প্রাণ ঝরছে। ঢাকায় ২৯৮টি বাস থামার স্থান চিহ্নিত করা হয়েছিল প্রায় দুই দশক আগে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা মহানগর পুলিশ ১২১টি স্থানে বাস থামার স্থান চিহ্নিত করেছিল। বাস স্টপেজ ছাড়া কোথাও বাসের দরজা খুলবে না, নিয়ম জারি করাও হয়েছিল। তবে কিছুদিন পর স্টপেজ ছাড়াই যাত্রী নামানো ও তোলা শুরু হয়।

এখন নির্বাচনী ডামাডোলে সিটি কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো সমন্বয় কার্যক্রমও চলছে না।

শাহবাগ মোড়ে চারটি সড়কের আটটি লেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের সামনে বাস থামার স্থান আছে। গতকাল সকালে দেখা গেল, চিহ্নিত করা অংশে বাস থামানো হচ্ছে না। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে বাস থামানো নিষেধ থাকার পরও যাত্রী তুলতে দেখা গেল আকিক পরিবহন, তুর পরিবহন, প্রজাপতি পরিবহনসহ বেশির ভাগ কম্পানির বাসে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, মহাখালী আমতলা, গুলশান-১-এ বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামানো হয় না।

শাহবাগে বারডেম হাসপাতালের সামনে বাস থামে। এ স্থানটিকে দীর্ঘদিন ধরে লোকজন বাস স্টপেজ হিসেবে চিনে আসছে। কিন্তু নিরাপত্তা ও পরিবহনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্টপেজটি এখন করা হয়েছে ঢাকা ক্লাবের কাছাকাছি। কিন্তু বাস এসে থামছে বারডেমের সামনেই। এ কারণে স্থানটি ছোট বাস টার্মিনালের রূপ নিয়েছে। শিকড় পরিবহনের চালক রবিউল ইসলাম বলেন, চিহ্নিত করা অংশে বাস থামালে যাত্রী মিলে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা