kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

দালালের দখলে ফেরির টিকিট

দৌলতদিয়া ঘাটে চালকরা হয়রানির শিকার

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দালালের দখলে ফেরির টিকিট

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে দালালচক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। টিকিট কেনার পাশাপাশি সিরিয়াল ভেঙে দ্রুত ফেরি পার করার কথা বলে কৌশলে তারা বিভিন্ন ট্রাকচালকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার ছত্রচ্ছায়ায় বিশাল ওই দালালচক্র গড়ে উঠেছে। চক্রে থাকা তিন শতাধিক সক্রিয় দালালের দৌরাত্ম্যে ফেরি পার হতে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের চালকরা সেখানে অসহায়।

ভুক্তভোগী অনেক চালকের অভিযোগ, ‘দৌলতদিয়া ঘাটে দালাল না ধরলে ফেরির টিকিট মেলে না।’ শুধু তা-ই নয়, এখানে আধিপত্য বিস্তারের জন্য কয়েকটি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে আছে। গত শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া ঘাটে আধিপত্য বিস্তারে দুই গ্রুপ ট্রাক দালালের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত মোশারফ হোসেন নামের একজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিআইডাব্লিউটিএর দৌলতদিয়া ঘাট অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে গড়ে তিন হাজার ঢাকাগামী গাড়ি নিয়মিত ফেরি পার হয়। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা ৭০০, পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান এক হাজার এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন ছোট গাড়ি এক হাজার ৩০০। এদিকে ওই নৌপথে লেগে থাকা ফেরির সংকট কাটেনি। পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারণে দীর্ঘ সময় জুড়ে প্রায়ই ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকছে। এতে স্বাভাবিক পারাপার ব্যাহত হওয়ায় দৌলতদিয়া ঘাটে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সেখানে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরি পার করায় দৌলতদিয়া ঘাটে আটকা পড়ছে ঢাকাগামী পণ্যবাহী শত শত ট্রাক। এ সুযোগে স্থানীয় ট্রাক দালালচক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

ঘাটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার ছত্রচ্ছায়ায় বিশাল ওই দালালচক্র গড়ে উঠেছে। বর্তমান ওই দালালচক্রের সক্রিয় সদস্যসংখ্যা তিন শতাধিক। টিকিট কেনার পাশাপাশি সিরিয়াল ভেঙে দ্রুত ফেরি পার করার কথা বলে কৌশলে ট্রাকচালকদের জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দালালরা। এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটে দালালের দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী কয়েকজন ট্রাকচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাটে এসে অতিরিক্ত টাকায় দালাল না ধরলে ফেরির টিকিট সহসা পাওয়া যায় না। এ ব্যাপারে পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখিও হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না।’ এদিকে বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যাবস্থাপক মো. আবু আব্দুল্লাহ জানান, সরকার নির্ধারিত ফেরি ভাড়া অনুযায়ী প্রতিটি সাধারণ ট্রাক এক হাজার ৬০ টাকা, বড় আকারের ট্রাক এক হাজার ৪৬০ টাকা। তবে নির্ধারিত ওজনের চেয়ে ট্রাকে বেশি মাল বহন করলে অতিরিক্ত ওজনের টনপ্রতি ১২০ টাকা হারে মূল টিকিট মূল্যের সঙ্গে যোগ করা হয়। এ জন্য ডিজিটাল ওয়েস্কেলের মাধ্যমে ফেরি পার হতে আসা প্রতিটি ট্রাকের সঠিক ওজন পরিমাপ করা হচ্ছে। স্কেল থেকে দেওয়া ওজন স্লিপ অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাকের ফেরি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাটে ট্রাক দালালচক্রের তৎপরতার কথা কারো অজানা নয়। তবে আমাদের কাউন্টার থেকে কোনো দালালের কাছে ফেরির টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। ট্রাকচালকরা সরাসরি কাউন্টারে এসে তাঁরা নিজ হাতে ফেরির টিকিট কিনছেন।’

এদিকে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া ঘাটে ট্রাক পারাপারে আধিপত্য বিস্তারে দুই গ্রুপ ট্রাক দালালের মধ্যে প্রথমে ধাওয়াধাওয়ি, পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত মোশারফ হোসেন নামের একজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাট থেকে গত এক মাসে বিভিন্ন সময়ে ১৪ জন ট্রাক দালালকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রে জড়িত অন্য দালালদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে।’ তবে যেকোনো মূল্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে দৌলতদিয়া ঘাট দালালমুক্ত করা হবে বলে ওসি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা