kalerkantho

যৌন হয়রানির অভিযোগ কুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে

গোদাগাড়ীতে মাদরাসার শিক্ষক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যৌন হয়রানির অভিযোগ কুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের সভাপতি আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও প্রগ্রাম পরিচালকের কাছে লিখিতভাবে এই অভিযোগ জানিয়েছেন একই বিভাগের সান্ধ্য কোর্সের এক ছাত্রী। তবে ওই শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তালিমুল কোরআন ক্যাডেট মাদরাসার এক ছাত্রকে (৮) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে কাওসার আলী নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

লিখিত অভিযোগে কুবির ওই ছাত্রী দাবি করেন, গত ১৩ জানুয়ারি তিনি একটি কোর্সের পরীক্ষা দিতে যান। বিকেল সাড়ে ৫টায় পরীক্ষা শুরুর আগে বিভাগীয় প্রধান মোবাইল ফোন সঙ্গে না রেখে সবাইকে পরীক্ষা দিতে বলেন। বিষয়টি শুনে তিনি মোবাইল ফোনসহ নিজের ব্যাগ নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেন। কিন্তু পরীক্ষা শেষে ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোনসেট বের করে দেখেন, সিম অদলবদল করা এবং তাঁর মেমোরি কার্ডের জায়গায় নষ্ট একটি মেমোরি কার্ড লাগানো রয়েছে।

ছাত্রীর ভাষ্য, ওই শিক্ষকের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়া সংক্রান্ত অনেক তথ্য ওই মোবাইল ফোনে ছিল। সেগুলো নষ্ট করার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক সব কিছু মুছে দিয়েছেন। ওই ছাত্রী বলেন, ‘বিভাগীয় প্রধান আমাকে নানা সময়ে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু আমি বিভিন্নভাবে সেই প্রস্তাব এড়িয়ে যেতাম। আমাকে রাজি করাতে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ থেকে মেসেজ দিয়ে অনেক কিছু বলতেন। সাড়া না দেওয়ায় আমার ফোন থেকে তিনি সম্ভবত সব মুছে ফেলেছেন।’

মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদার বলেন, ‘অভিযোগ সত্য নয়। অভিযোগ যেহেতু দেওয়া হয়েছে, তা প্রমাণ করার বিষয়। প্রমাণ করলে বিষয়টি বোঝা যাবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। উপাচার্যের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গোদাগাড়ীতে শিক্ষক আটক : আটক কাওসার আলী নওগাঁর সাপাহার থানার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নুরুল হকের ছেলে।

ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগ, গত ১২ ডিসেম্বর পরীক্ষার শেষ করে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় ওই ছাত্রকে। এরপর গত বৃহস্পতিবার তাকে মাদরাসায় যেতে বললে সে রাজি হচ্ছিল না। এর কারণ জানতে চাইলে সে ওই শিক্ষকের নিপীড়নের কথা জানায়। এরপর গতকাল শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগীর নানা ও মা মাদরাসা পরিচালকের কাছে অভিযোগ জানাতে যান। এ সময় স্থানীয়দের সমাগম হলে পুলিশ অভিযোগ উঠা শিক্ষককে আটক করে।

মাদরাসার পরিচালক আতিক বীন আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা আগে জানা ছিল না। আজ থেকে এই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হলো। আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা হবে, সেটা মেনে নিতে হবে।’

গোদাগাড়ী থানার ওসি খাইরুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষক নিজের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা