kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মান নিয়ে প্রশ্ন

খুলনায় অলিগলিতে ক্লিনিক-ল্যাব

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খুলনায় অলিগলিতে ক্লিনিক-ল্যাব

ভাইয়ের চিকিৎসা করাতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন তেরখাদার আব্দুল আলীম।  চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা দেন। কাছের একটি ল্যাব থেকে এসব পরীক্ষা করান তিনি। কিন্তু সেই পরীক্ষার ফল দেখে চিকিৎসক তাঁকে অন্য আরেকটি ল্যাব থেকে পরীক্ষা করাতে বলেন। ওই পরীক্ষার পর তৃতীয়বার মেডিক্যাল কলেজের প্যাথলজিক্যাল ল্যাব থেকে পরীক্ষা করান তিনি। কিন্তু তিনটি পরীক্ষায় পাওয়া যায় তিন রকম ফল।

এ রকম অভিযোগ হরহামেশাই উঠছে। অনেকের অভিযোগ, খুলনার প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষায় ফল ঠিক পাওয়া যায় না। অথচ পরীক্ষানির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার বিকল্প নেই।

সরেজমিন দেখা যায়, খুলনা মহানগরীতে সবচেয়ে বেশি ক্লিনিক ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির অবস্থান খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে। এখানকার সড়কগুলোয় সারি সারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি রয়েছে। সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, রয়্যাল হোটেলের মোড়, শান্তিধাম মোড়, বাবুখান রোডের কমার্স কলেজের আশপাশেও আছে অনেক ক্লিনিক ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি। এগুলো ছাড়াও যেকোনো সড়ক ধরে এগোলেই এক বা একাধিক ক্লিনিক ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি চোখে পড়ে।

এসব ক্লিনিক ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরিতে আছে বিশেষজ্ঞ একাধিক চিকিৎসকের সাইনবোর্ড। তবে অভিযোগ রয়েছে, কালেভদ্রে ওই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সেখানে যান। কাজ করেন মূলত টেকনিশিয়ানরা।  তাঁরা কোনোমতে এসব পরীক্ষার জন্য উপাদান সংগ্রহ করেন। অনেক সময় পরীক্ষাও তাঁরাই করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চিকিৎসক কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, আসলে টেকনিশিয়ান বা সহকারীরাই রোগীর কাছ থেকে পরীক্ষার উপাদান সংগ্রহ করেন, রি-এজেন্ট (পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান) ব্যবহার করেন এবং পরীক্ষার ফলের শিট তৈরি করেন। বিশেষজ্ঞরা শুধু তা দেখে মন্তব্য করেন। খুলনার বেশির ভাগ প্যাথলজিতে ব্যবহৃত রি-এজেন্ট মানসম্পন্ন নয়। ব্যবহৃত আসবাবগুলোও অনেক ক্ষেত্রে ঠিকমতো জীবাণুমুক্ত করা হয় না। এ কারণে ফলে বিভ্রান্তি হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, খুলনা মহানগরীতে প্যাথলজিক্যাল ল্যাবের সংখ্যা ৬৫টি। আর খুলনা জেলায় ক্লিনিক আছে ৯৮টি।

বিএমএ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, ভালো রেগুলেটিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে মান নিয়ে অভিযোগ উঠবে এবং সেবাপ্রার্থীরা প্রতারিত হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা