kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

খুঁড়িয়ে চলছে রেলপথে পণ্য পরিবহন

বেনাপোল স্থলবন্দরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন নেই

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথেও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সমস্যায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রেলপথের বাণিজ্যিক কার্যক্রম। নানা দুর্ভোগ ও হয়রানিতে লোকসানে পড়ে অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর থেকে রেলপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দিচ্ছেন। এর ফলে ব্যবসায়ীরা যেমন আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তেমনি সরকারও পর্যাপ্ত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সমৃদ্ধ কনটেইনার টার্মিনাল, রেলপথ ও পর্যাপ্ত বগি-ইঞ্জিন বৃদ্ধি করলে এ পথে বাণিজ্য আরো বাড়বে। সঙ্গে বাড়বে রাজস্ব। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনাপোল থেকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারণেই মূলত এ পথে বাণিজ্যে বেশি আগ্রহী উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন সমস্যা বাণিজ্য বিস্তারে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেনাপোল রেলপথ দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি বাণিজ্য শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। সড়কে যানজটসহ বিভিন্ন ভোগান্তির কারণে দিন দিন রেলপথে পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। কিন্তু বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গত দুই যুগেরও বেশি সময়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে সংকীর্ণ রেলপথ ইয়ার্ড ও পর্যাপ্ত ইঞ্জিন-বগি না থাকায় পণ্য নিয়ে রেল কার্গো দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকে। এতে অনেকে বাধ্য হয়ে এ পথে পণ্য পরিবহন কমিয়ে দিয়েছে। গত এক বছরে এই রুটে রেল কার্গোতে ভারত থেকে মাত্র ১২ হাজার ৭৭০ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এ থেকে রাজস্ব আদায় হয় প্রায় এক কোটি টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ পথে বেশির ভাগ শিল্প-কারখানার কাঁচামাল ও খাদ্যদ্রব্য আমদানি হয়ে থাকে। বেনাপোল স্টেশনে পণ্য খালাসের কোনো ব্যবস্থা নেই। বেনাপোল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে নওয়াপাড়ায় নিয়ে পণ্য খালাস করতে হয়। এতে সময়মতো পণ্য সরবরাহ যেমন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে তেমনি এ বাবদ বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এসব কারণে অনেক ব্যবসায়ী এ স্টেশন ছেড়ে অন্য স্টেশনে (স্থলবন্দর) চলে গেছেন।

পণ্যবাহী ভারতীয় রেল ওয়াগন পরিচালক উত্তম মল্লিক এ বিষয়ে জানান, বেনাপোল রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত ইয়ার্ড না থাকায় তাঁরা মালামাল নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে পারেন না। রেলপথে আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে বেনাপোলে ইয়ার্ড ও রেলপথের উন্নয়ন প্রয়োজন।

ইন্দো-বাংলা চেম্বার অব কমার্স সাবকমিটি পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, ব্যবসায়ীরা সহজীকরণের মাধ্যমে বেশি করে পণ্য আমদানি করতে চান। তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনার টার্মিনালের (আইসিটি) মতো বেনাপোলে কনটেইনার বা ওয়াগনে মালামাল পরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীরা সব দিক থেকেই উৎসাহিত হবেন। কারণ এর ফলে ভারত থেকে বেনাপোলে কনটেইনার আসার পর বেনাপোল কাস্টম থেকেই পণ্যের অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করে সেই কনটেইনার ট্রাকে করে আমদানিকারকের ঘরে পৌঁছে যাবে দ্রুত, সহজে এবং কম খরচে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, ব্যবসায়ীরা হয়রানি ও দুর্ভোগ ছাড়া বাণিজ্য করতে চান। বেনাপোল স্টেশনে কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকার সঙ্গে কলকাতার ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ পথে আমদানি বাণিজ্য যেমন বাড়বে তেমনি বাণিজ্য সহজীকরণ হবে। 

বেনাপোল স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, বেনাপোল রেলস্টেশনে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ইঞ্জিন ও ইয়ার্ডের সমস্যা আছে। যদি ইয়ার্ডের লাইন বাড়ানো থাকত তাহলে রেলপথে আমদানি করা পণ্যের পরিবহন অনেক বাড়ত। তবে বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি সূত্র দাবি করেছে, খুব দ্রুতই এখনকার রেল অবকাঠামোর উন্নয়ন শুরু হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা