kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ফোরটিফাই রাইটসের প্রতিবেদন

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে এনভিসি নিতে বাধ্য করছে মিয়ানমার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে তাদের ‘বাঙালি’ বা ‘বিদেশি’ হিসেবে ‘নাগরিকত্ব যাচাইকরণ কার্ড’ (ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড, সংক্ষেপে এনভিসি) নিতে বাধ্য করছে বলে দাবি করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ফোরটিফাই রাইটস। গতকাল বৃহস্পতিবার সংগঠনটি এক প্রতিবেদনে ওই দাবি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করছে এমন নতুন নতুন প্রমাণ ফোরটিফাই রাইটসের কাছে আছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের বিদেশি বা বাঙালি হিসেবে অভিহিত করে এনভিসি গ্রহণ করতে বাধ্য করার সরকারি উদ্যোগের কথাও মানবাধিকার সংগঠনটি তুলে ধরেছে।

ফোরটিফাই রাইটস বলেছে, মিয়ানমার সরকারের উচিত অনতিবিলম্বে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পুনর্বহাল করা। ফোরটিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথু স্মিথ বলেন, ‘এনভিসি নিপীড়নকারী উদ্যোগ হিসেবে বহুল পরিচিত। অনতিবিলম্বে মিয়ানমার সরকারের এনভিসি বন্ধ করা উচিত।’

ম্যাথু স্মিথ আরো বলেন, ‘নতুন তথ্য-প্রমাণ থেকে দেখা যাচ্ছে যে রোহিঙ্গাদের পরিচয় মুছে ফেলতে এবং তাদের পূর্ণ নাগরিক হওয়া ঠেকাতে সরকারি কর্মকর্তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন।’

ফোরটিফাই রাইটস রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের এনভিসি নিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের বাধ্য করার অন্তত পাঁচটি সাম্প্রতিক ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে। ফোরটিফাই মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয়, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ নথি সংগ্রহ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সিতুয়ে টাউনশিপের বন্দিশিবিরে রোহিঙ্গাদের এনভিসি দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের একটি দল পাঠানো হবে।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বরের ওই নথি সই করেন সিতুয়ে টাউনশিপের অভিবাসন ও জনসংখ্যা বিভাগের প্রধান। থেট কে পিন বন্দিশিবিরের প্রশাসককে পাঠানো ওই নথিতে অভিবাসন বিভাগের ভ্রাম্যমাণ একটি দলকে ওই শিবিরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

ওই নথিতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ লোকদের মিয়ানমারের এনভিসি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। থেট কে পিন বন্দিশিবিরের ৩১ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা ফোরটিফাই রাইটসকে জানান, গত ১০ ডিসেম্বর মিয়ানমারের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁকে এনভিসি নিতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও অভিবাসন বিভাগের প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা তাঁকে এনভিসি ফরমে স্বাক্ষর করতে বলেন। বার্মিজ ভাষা না জানায় ওই ফরমে কী লেখা আছে তা তিনি বুঝতেই পারেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা