kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

জ্বালানি তেলের সংকটে রংপুর

পাম্প মালিকরা বিপাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জ্বালানি তেলের সংকটে রংপুর

বোরো চাষের ভরা মৌসুমে রংপুরে ফের জ্বালানি তেলের সংকট পড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী তেল (ডিজেল) না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল বিপণনকারী মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা পেট্রোলিয়ামের আওতায় রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের ১৫২টি ফিলিং স্টেশন (পাম্প)। এসব পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, গত রবিবারের পর থেকে বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর রংপুর ডিপোয় জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তেলের অভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এ অঞ্চলের সেচনির্ভর বোরো আবাদে। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে তা বলতে পারছে না বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানও।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে ডিজেলের মাসিক চাহিদা এক  কোটি ২৫ লাখ, পেট্রোল ২৫ লাখ ৫০ হাজার ও অকটেন চার লাখ ৪০ হাজার লিটার। এর বিপরীতে রংপুরে মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা পেট্রোলিয়ামের ডিপোয় ২৭ লাখ লিটার ডিজেল, ছয় লাখ লিটার পেট্রল ও ছয় লাখ ৮০ হাজার লিটার অকটেন মজুদ করে রাখা যায়। রংপুর ছাড়াও দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীতে অবস্থিত ডিপো থেকে জ্বালানি তেল এসব জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে এতে পরিবহন বাবদ দ্বিগুণ খরচ গুনতে হয় পাম্প মালিকদের।

পাম্প মালিকরা জানান, বর্তমান সময়ে এই অঞ্চলে বোরো ও আলু আবাদের ভরা মৌসুম চলছে। এ কারণে এখন ডিজেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু গত রবিবারের পর থেকে রংপুর ডিপোয় কোনো জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

রংপুরের গঙ্গাচড়ার একমাত্র পাম্প সিহাব ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সাহেদুজ্জামান সবুজ জানান, তাঁর পাম্পে বর্তমান সময়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২১ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু গত চার দিন থেকে ডিজেল মিলছে না। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী চাষিদের তেল সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না। রংপুর সাঈদ ফিলিং স্টেশনের প্রপ্রাইটার রিয়াজ শহীদ বলেন, রংপুরে তেল না থাকায় কয়েক দিনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে খোঁজ করেও ডিপো কর্তৃপক্ষ ডিজেল দিতে পারেনি। তাই সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে জ্বালানি তেল আনতে হচ্ছে। এতে সিরিয়াল পাওয়ার জটিলতাসহ জ্বালানি তেল নিয়ে ফিরে আসতে দুই দিনের বেশি সময় লাগছে। তিনি বলেন, ডিজেল কিনতে হয় লিটারপ্রতি ৬২ দশমিক ৫১ টাকায়। আর ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি হয় ৬৫ দশমিক ২৫ টাকায়। এর মধ্যে ভ্যাট, কমিশন ও পরিবহন খরচও যুক্ত। রংপুর ডিপো থেকে জ্বালানি তেল কিনলে লরিপ্রতি খরচ হয় এক হাজার ২০০ টাকা। অথচ পার্বতীপুর থেকে তেল আনতে তিন হাজার টাকা ও বাঘাবাড়ী থেকে আনতে ১০ হাজার টাকা খরচ পড়ে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স এজেন্ট ও পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রংপুর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ শহিদ শোভন বলেন, ডিপোয় জ্বালানি তেল না পাওয়ায় ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন পাম্প মালিকরা। চট্টগ্রাম থেকে রেলের ওয়াগনে করে জ্বালানি তেল রংপুরের ডিপোয় আনা হয়। প্রতি মাসে তিন থেকে চার দফায় ওয়াগনে করে জ্বালানি তেল আনার কথা থাকলেও আনা হয় সর্বোচ্চ দুই দফায়। এ কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়। তিনি আরো বলেন, এখন বোরো ও আলু চাষের মৌসুম চলছে। এ কারণে সেচের জন্য ডিজেলের ভালো চাহিদা আছে। শুধু রংপুরেই ৮৫টি পাম্পে মাসে আট লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু ভরা মৌসুমে ডিজেল বিক্রি করতে না পেরে লোকসান গুনতে হচ্ছে পাম্প মালিকদের।

রংপুর রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, রেলের ইঞ্জিন সংকটে জ্বালানি তেল পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। সর্বশেষ রংপুরে তেল আনা র‌্যাকার চট্টগ্রামে চলে গেছে গত রবিবার। সেই র‌্যাকার কবে নাগাদ জ্বালানি তেল নিয়ে ফিরে আসবে তা বলা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে যমুনা পেট্রোলিয়ামের ডিপোর ফিল্ড অফিসার সাইদুল ইসলাম বলেন, মূলত রেলের ইঞ্জিন ও ওয়াগন সংকটের কারণে জ্বালানি তেল আসছে না। কবে নাগাদ জ্বালানি তেল পাওয়া যাবে তাও বলা যাচ্ছে না। তবে এতে পাম্প মালিকদের সমস্যা হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ীতে অবস্থিত ডিপোতে জ্বালানি তেলের যথেষ্ট সরবরাহ আছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা