kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

প্রতারণা করে শত শত কোটি টাকার সম্পদ, দম্পতি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতারণা করে শত শত কোটি টাকার সম্পদ, দম্পতি গ্রেপ্তার

প্রতারণা করে শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়া এক দম্পতি ধরা পড়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জালে। এই দম্পতি প্রতারণার টাকায় রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি, গাড়ি, জমি ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে ২১টি ভুয়া সঞ্চয়পত্র জমা দিয়ে দুটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে আট কোটি ৬৫ লাখ টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এইচ এম এ বারিক ওরফে বাদল ওরফে বাদল হাওলাদার ওরফে মোস্তাক আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী মরশিদা আফরীন প্রায় ১৬ বছর ধরে পালিয়ে ছিলেন। অবশেষে গত শুক্রবার খুলনার খালিশপুর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন গতকাল শনিবার অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি প্রতারকচক্রের সদস্য। তাঁরা ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ভুয়া সঞ্চয়পত্র জমা দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন। এই চক্রের হোতা একজন শিল্পপতি, যাঁর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যবসা ছিল। তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করে শিল্পপতি হয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিআইডি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ২০০৪ সাল থেকে একটি প্রতারকচক্র ২১টি ভুয়া সঞ্চয়পত্র তৈরি করে এর বিপরীতে এবি ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে আট কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করে। এবি ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপকও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই দম্পতি জালিয়াতি করে ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁদের ব্যাংক হিসাবে জালিয়াতির দুই কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে। তাঁদের নামে গুলশান-২ নম্বরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের একটি ৯ তলা বাড়ি, উত্তরায় শত কোটি টাকা মূল্যের একটি ছয়তলা বাড়ি, উত্তরখান এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের একটি দোতলা বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের একাধিক ফ্ল্যাট, গাড়ি ও জমির তথ্য পাওয়া গেছে।’

ফারুক হোসেন জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে ২০০৪ সালে এবি ব্যাংক থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়। তখন থেকে পালিয়ে ছিলেন মোস্তাক হাওলাদার। ওই মামলায় তাঁর সাজাও হয়েছে। গত ১৬ বছর তাঁরা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারতে পালিয়ে ছিলেন। ২০১১ সালে গোপনে দেশে এসে আবার জালিয়াতি শুরু করেন। ১৬ বছর ধরেই পলাতক মোস্তাককে খুঁজছিল পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো জানান, ওই মামলায় এবি ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক আসিরুল হক ২০০৬ সালে তিন মাস কারাভোগ করেন। জামিনে মুক্তির পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তবে এর সঙ্গে ব্যাংকের আর কোনো কর্মকর্তা জড়িত কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ব্যাংক থেকে ভুয়া সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০০৪, ২০১১ ও ২০১৬ সালে গুলশান, ধানমণ্ডি, উত্তরা পশ্চিম ও মোহাম্মদপুর থানায় সাতটি মামলা দায়ের করে। মামলাগুলো সিআইডি তদন্ত করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা