kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

প্রচারযুদ্ধ শুরু আজ

আ. লীগ-বিএনপিতে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন বিদ্রোহীরাও

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারযুদ্ধ শুরু হচ্ছে আজ শুক্রবার। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। আজ প্রতীক বরাদ্দের পরই আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামবেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত মেয়র প্রার্থীরা লড়বেন দলীয় প্রতীকে। আর কাউন্সিলর প্রার্থীরা দল সমর্থিত হলেও লড়বেন নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রতীকে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আহবান  জানানো হলেও তেমন সাড়া মেলেনি। অনেক বিদ্রোহী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। একই চিত্র বিএনপিতেও। কাউন্সিলর নির্বাচনে লড়ছেন বিএনপির বহুসংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থীও। সংরক্ষিত নারী আসনেও রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী।

গতকাল শেষ দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে কোনো মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। উত্তর সিটিতে মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম, বিএনপির তাবিথ আউয়াল, সিপিবির আহমেদ সাজেদুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ ফজলে বারী মাসউদ, পিডিপির শাহীন খান, এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান।

দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, বিএনপির ইশরাক হোসেন, জাতীয় পার্টির সাইফুদ্দিন মিলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুর রহমান, গণফ্রন্টের আবদুস সামাদ, এনএনপির বাহরানে সুলতান বাহার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আকতারুজ্জামান আয়াতউল্লাহ।

কাউন্সিলর পদে উত্তরে ১১১ জন, দক্ষিণে ১২৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে উত্তরে ১২ জন ও দক্ষিণে ২০ জন প্রত্যাহার করেছেন। প্রত্যাহারের পর ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে ছয়জন এবং দক্ষিণে সাতজন নির্বাচন করবেন। কাউন্সিলর পদে দক্ষিণে ৩৩৫ জন ও উত্তরে ২৫১ জন বৈধ প্রার্থী। সংরক্ষিত নারী আসনে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা উত্তরে ৭৭ জন এবং দক্ষিণে ৮২ জন।

মেয়র প্রার্থীরা আজ শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র প্রার্থী সাজেদুল হক সকাল ১০টায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ থেকে প্রচারণা শুরু করবেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম জুমার নামাজের পর উত্তরের ৪ নম্বর সেক্টর থেকে এবং বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বাদ জুমা প্রচারণা শুরু করবেন উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টর থেকে।

গতকাল আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। প্রত্যাহার করতে এসে তাঁরা কেউ বলেছেন দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে প্রত্যাহার করছি, কেউ বলেছেন প্রত্যাহারে চাপ রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীকে বিতর্কিত, জনবিচ্ছিন্ন, জয়লাভের অযোগ্য আখ্যা দিয়ে অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন। ঢাকা উত্তরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়া হারুন অর রশিদ মিঠুর বিরুদ্ধে লড়ছেন মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইসমাইল হোসেন মোল্লা। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘১৩ নম্বর ওয়ার্ডে দল যাঁকে সমর্থন দিয়েছে তিনি বিতর্কিত, জনবিচ্ছিন্ন। সে জন্য এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অনুরোধে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

উত্তরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন না পাওয়া পল্লবী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘৫ নম্বর ওয়ার্ডে দল সমর্থন দিয়েছে আবদুর রউফ নান্নুকে। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিতর্কিত। এলাকার মানুষের অনুরোধে নির্বাচন করছি।’

৬ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি রূপনগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি রজ্জব হোসেন এবং যুবলীগ ঢাকা উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। বাপ্পী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৬ নম্বর ওয়ার্ডে যাঁকে দল সমর্থন দিয়েছে তিনি জনবিচ্ছিন্ন। আমি দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এলাকায় কাজ করছি। দল আমাকে সমর্থন দেয়নি। তবে এলাকার মানুষের সমর্থনে নির্বাচন করছি।’

উত্তরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন তাজু দেওয়ান। উত্তরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর কাজী জহিরুল হক মানিক এবার দলীয় সমর্থন পাননি। তবে তিনি নির্বাচনে লড়ছেন। মনোনয়নত্র প্রত্যাহার করেননি। উত্তরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি হুমায়ুন রশিদ জনি। গত নির্বাচনেও তিনি বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

দক্ষিণের ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জাহিদ হোসেন জুয়েল।

দক্ষিণের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি হাজি রফিকুল ইসলাম। ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন মাসুম মোল্লা।

উত্তরের চেয়ে দক্ষিণে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বেশি

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। দলটির নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, উত্তরের চেয়ে দক্ষিণে এ সংখ্যা বেশি।

বিএনপির দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭৩টি ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন ঘোষণা করা হয়। এই ৭৩টি ওয়ার্ডের ১৫টিতে রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। ৩৭নং ওয়ার্ডে সুমন ভূঁইয়া, ৬৬নং ওয়ার্ডে নুর উদ্দিন মিয়া (বর্তমান কাউন্সিলর), ৫২নং ওয়ার্ডে পাভেল রানা।

অন্যদিকে উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচ-ছয়টিতে রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। এর মধ্যে ৪৭নং ওয়ার্ডে হেলাল উদ্দিন, ৮নং ওয়ার্ডে সোলাইমান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা