kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

সরাইলের বিজ্ঞান মেলা

এমপি না আসায় কানাঘুষা!

চেয়ারম্যানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, ইউএনওর সঙ্গে দূরত্ব নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ঝামেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি আসেননি—সেই নিয়ে চলছে আলোচনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগমের (শিউলী আজাদ) না আসা নিয়ে ‘কানাঘুষা’ শুরু হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ইউএনওর সঙ্গে দূরত্ব নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি আসেননি—সেই নিয়ে চলছে আলোচনা।

গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ওই মেলায় অবশ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সভাপতি ইউএনও উপস্থিত ছিলেন না। এ অবস্থায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা প্রিয়াংকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। অতিথি নিয়ে জটিলতায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। মেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৫টি স্টল অংশ নেয়।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদ খালিদ জামিল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সরাইল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নোমান মিয়া, সরাইল মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি মো. আইয়ুব খান, জেলা পরিষদ সদস্য মো. পায়েল হোসেন মৃধা প্রমুখ। অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসমত আলী ও মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে এমপি আমাদের অসম্মান করেছেন। আমরা এখন থেকে ওনার কোনো অনুষ্ঠানে যাব না।’

ইউএনও এ এস এম মোসা সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সকালে এমপির মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভা থাকায় আমি সেখানে যাই। এমপি না আসায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়। বিকেলে এমপি জানিয়েছেন তিনি অসুস্থ ছিলেন।’

এমপি উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম বলেন, ‘ইউএনওই ভালো জানেন কেন আমি যাইনি। এ ছাড়া উনি দাওয়াত দিয়ে নিজেই না থাকাটা আমার না যাওয়ার একটা কারণ। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থও ছিলাম। বিষয়টি নিয়ে আমি অন্য কোনো কথা বলতে চাই না। সবাইকে নিয়ে আমার চলতে হবে।’ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো বলে তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, উম্মে ফাতেমার স্বামী ইকবাল আজাদ হত্যা মামলায় রফিক উদ্দিন ঠাকুরকে আসামি করা হয়। এ নিয়ে উম্মে ফাতেমা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চরমে। বিজয় দিবসে অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা ইসমত আলী ও আনোয়ার হোসেনকে এমপি উত্তরীয় না পরানোয় সমালোচনা হয়। ওই দুজনও ইকবাল আজাদ হত্যা মামলার আসামি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা