kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান

কর্ণফুলী নদীর ৭০ শতাংশ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শিগগিরই

ভারতকে ট্রান্সশিপমেন্ট দিতে প্রস্তুত বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনার উচ্ছেদকাজ ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি ৭০ শতাংশের উচ্ছেদকাজ শিগগিরই শুরু হবে। কনটেইনার উঠানামায় বিশ্বের বন্দরগুলোর মধ্যে ‘থ্রি মিলিয়নস ক্লাবে’ অন্তর্ভুক্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ। গতকাল মঙ্গলবার বন্দর ভবনে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বন্দর চেয়ারম্যান এমন সময় ঘোষণাটি দিলেন, যখন আদালতের আদেশ মেনে বন্দরের আওতাধীন কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকাজ না চালানোয় উচ্চ আদালত থেকে তাঁকে তলব করা হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী আগামী ২৬ জানুয়ারি তাঁকে আদালতে গিয়ে এর জবাব দিতে হবে। ছয় মাস ধরে উচ্ছেদ অভিযানটি রহস্যজনক কারণে বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘উচ্ছেদ একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা থেমে নেই। নতুন অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

বন্দর চেয়ারম্যান জুলফিকার আজিজ বলেন, ভারতকে ট্রান্সশিপমেন্ট দিতে চট্টগ্রাম বন্দর এখন প্রস্তুত। তবে কী পরিমাণ পণ্য সেখান থেকে আসবে, ট্যারিফ কেমন হবে, অগ্রাধিকার বার্থিং পাবে কি না, সেগুলো দুই দেশের চুক্তিতে যা আছে সে অনুযায়ী হবে। তিনি বলেন, ‘৩০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ২০৪৩ সাল নাগাদ ১৪ মিলিয়ন একক কনটেইনার উঠানামা হবে চট্টগ্রাম বন্দরে। সে অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। ২০১৩ সালে এই মাস্টারপ্ল্যানের সময় বন্দরের প্রবৃদ্ধি এত ছিল না। তাই আমরা একটি রিভাইজ প্ল্যান তৈরি করছি।’

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, চলতি বছর মুজিববর্ষে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) পণ্য উঠানামা শুরু হবে। এই প্রকল্পের ৫২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এটি চালু হলে বছরে সাড়ে চার লাখ একক কনটেইনার উঠানামা করা যাবে। পতেঙ্গা-হালিশহর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা চট্টগ্রাম বন্দর ‘বে টার্মিনালে’ ২০২৫ সালের মধ্যে দেড় হাজার মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস টার্মিনাল এবং এক হাজার ২২৫ ও ৮৩০ মিটার দীর্ঘ দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এটি হলে বর্তমানে বন্দরের মূল জেটিতে জোয়ারের সময় সর্বোচ্চ চার ঘণ্টায় সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফট ও ১৯০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ ভেড়ানোর যে সুযোগ, তার পরিবর্তে বেশি ড্রাফটের ও বড় জাহাজ দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ভেড়ানোর সুযোগ থাকবে। তিনি আশার বাণী শোনান, ২০২৫ সালের পর চট্টগ্রাম শহরে আর কোনো পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকবে না। কারণ বন্দর থেকে সব ট্রাক তখন বে টার্মিনালে চলে যাবে। সেখান থেকেই পণ্য ডেলিভারি হবে।

লিখিত বক্তব্যে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৯ সালে বন্দরে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার একক কনটেইনার উঠানামা করেছে (প্রবৃদ্ধি ৬.৩৪ শতাংশ)। আর সাধারণ পণ্য উঠানামা হয়েছে ১০ কোটি ৩০ লাখ টন (প্রবৃদ্ধি ৭.০৩ শতাংশ)। এই পরিসংখ্যান বন্দরের ৩০ বছর মেয়াদি পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। পুরনো ইয়ার্ড সংস্কার, নতুন ইয়ার্ড নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড নির্মাণের কারণে এটি হয়েছে।

চেয়ারম্যান বলেন, গত এক বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫০ বেডের একটি আধুনিক হাসপাতাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের জন্য ১০টি শিপ টু শোর কি-গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ ৫১টি ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে নিউমুরিং ওভারফ্লো ইয়ার্ডের প্রথম পর্যায়ের কাজ গত বছর শেষ হয়েছে। এ ছাড়া হাইপাওয়ার টাগবোট ও ইয়ার্ডের নতুন ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ এবং নিউমুরিং ওভারফ্লো ইয়ার্ডের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বন্দর সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম, সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর শফিউল বারি, সদস্য (প্রকৌশল) ক্যাপ্টেন এম মহিদুল হাসান, সচিব ওমর ফারুক, পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, উপসচিব আজিজুল মাওলাসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা