kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

মেধায় ঠাঁই পেয়েও স্বপ্নের স্কুলে পড়া হলো না তার

প্রধান শিক্ষকের অসৌজন্যমূলক আচরণ

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাত-পা ছাড়াই জন্ম নেওয়া যশোরের মণিরামপুরের সেই লিতুনজিরার সরকারি স্কুলে পড়া হলো না। ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পেয়েও মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি সে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীর অসৌজন্যমূলক আচরণে অসন্তুষ্ট তার মা-বাবা মেয়েকে এই স্কুলে ভর্তি করাননি।

ফলে অদম্য মেধাবী লিতুনজিরা পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চাওয়ার স্বপ্ন শুরুতে হোঁচট খেল। প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীর মুখে উচ্চারিত কয়েকটি শব্দ তার সেই স্বপ্নে চিড় ধরিয়েছে।

মণিরামপুরের শেখপাড়া খানপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও গৃহিণী জাহানারা বেগমের একমাত্র মেয়ে লিতুন জিরা। ২০১৯ সালে স্থানীয় খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। হাত-পা না থাকায় মুখে ভর দিয়ে লিখে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। কখনো হুইল চেয়ারে চড়ে বা কখনো মা-বাবার কোলে চড়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করত লিতুনজিরা।

গত ২৩ ডিসেম্বর মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় লিতুনজিরা। ওই দিন রাতে প্রকাশিত ফলে সে ৬০ জনের মধ্যে মেধা তালিকায় ৫৪তম স্থান লাভ করে।

লিতুনজিরার মা জাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, ভর্তি পরীক্ষায় স্কুলের দোতলায় আসন পড়ে লিতুনজিরার। হুইল চেয়ারে করে মেয়েকে ওপরে নেওয়া কষ্টসাধ্য বলে প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীকে নিচে তার পরীক্ষা নিতে অনুরোধ করি। তখন তিনি বলেন, ‘কোমরে করে বস্তাভর্তি ধান ঘরের ছাদে তুলতে পারেন। মানুষ মাথায় করে ইটবালি তুলে কত বড় বড় বিল্ডিং তৈরি করছে। আর মেয়েকে নিয়ে আপনি ওপরে উঠতে পারবেন না। এসব প্রতিবন্ধীকে এমন স্কুলে পড়ানোর দরকার কী?’

প্রধান শিক্ষকের এমন অসৌজন্যমূলক আচরণে মায়ের সঙ্গে লিতুনজিরাও কষ্ট পায়। তখনই স্বপ্নের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার আশা ছেড়ে দেয় সে।

পরে গত ১ জানুয়ারি উপজেলার গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণিতে মেয়েকে ভর্তি করান বাবা হাবিবুর রহমান।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী লিতুনজিরার মায়ের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার আচরণে লিতুনজিরার মা কষ্ট পাবেন তা বুঝতে পারিনি। আমি এর জন্য তাদের কাছে ভুল স্বীকার করেছি। লিতুনজিরাকে আমার স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।’

মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীর বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (খুলনা) নিভারানী পাঠকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা