kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

লাউয়াছড়া বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টার নিজেই ‘অসুস্থ’

মোস্তাফিজুর রহমান, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লাউয়াছড়া বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টার নিজেই ‘অসুস্থ’

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন্য প্রাণী চিকিৎসায় নির্মিত ‘ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার’ কয়েক বছর ধরে বেহাল। সেখানে না আছে পর্যাপ্ত লোকবল; না আছে চিকিৎক; না আছে কোনো কার্যক্রম। সব মিলিয়ে অকার্যকর এক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে চিকিৎসাকেন্দ্রটি।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া এলাকায় এই কেন্দ্রের অবস্থান। সরেজমিনে দেখা যায়, খানিকটা টিলার মতো দেখতে একটি জায়গাজুড়ে রেসকিউ সেন্টারটি তারের বেড়া দিয়ে ঘেরা। দেখেই মনে হবে, দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কিংবা রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ রয়েছে সেখানে। চারদিকে ঝোপ-জঙ্গল আর আগাছা। অনেকটা ভূতুড়ে অবস্থা। এর মধ্যেই সেখানে চিকিৎসা চলছে দুটি মেছোবাঘ, পাঁচটি বানর ও ছোট-বড় তিনটি বার্মিজ অজগরের। দেখভাল করার জন্য কর্মী আছেন দুজন। তাঁদের একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জুনিয়র ‘ওয়াইল্ড লাইফ স্কাউট’; আরেকজন বনপ্রহরী, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যাঁর কোনো দক্ষতা নেই।

এ ছাড়া চিকিৎসক না থাকায় গুরুতর আহত প্রাণীর ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে হয় কেন্দ্রের কর্মীদের। অনেক সময় বন বিভাগ বাইরে থেকে চিকিৎসা করিয়ে এনে বিভিন্ন প্রাণীকে পুনরায় অবমুক্ত করে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব প্রাণীর আর খোঁজ করা হয় না।

কমলগঞ্জ জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়া বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অনেক প্রাণী খাবারের জন্য লোকালয়ে গেলে স্থানীয়দের হাতে আটকা পড়ে। শিকারিদের কবলে পড়েও আহত হয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উদ্ধার হওয়া এসব বন্য প্রাণীর কোনো চিকিৎসা ছাড়াই বনে অবমুক্ত করা হয়।

কমলগঞ্জ লাউয়াছড়া বনবিটের রেঞ্জার মোনায়েম হোসেন বলেন, জনবল সংকটের কারণে রেসকিউ সেন্টারটির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কোনো বন্য প্রাণীর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে হয়। অথবা বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে দিয়ে দিতে হয়। জনবল সংকট নিরসনে উচ্চ পর্যায়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা