kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

জিয়া ছিলেন মোশতাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জিয়া ছিলেন মোশতাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন। ছবি : ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, খন্দকার মোশতাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক ছিলেন জিয়া। তিনি বলেন, ‘জিয়া মোশতাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক ছিলেন বলেই তিনি তাঁকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। যদি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়া জড়িত না-ই থাকবেন, তবে খন্দকার মোশতাক তাঁকে কেন সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন?’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনাসভায় এ কথা বলেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই আলোচনাসভার আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বাধীনতাকে সমুন্নত রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ভবিষ্যতে জনগণের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ আর ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে জন্য তরুণদের সতর্ক থাকতে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দেশবাসীকে মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশের মাটিতে মীরজাফর ও খন্দকার মোশতাকের মতো বিশ্বাসঘাতকরা জন্মেছিলেন এবং যুগে যুগে ‘খুনি জিয়ার’ মতো মানুষ আসতেই থাকবে। তিনি বলেন, ‘তাই যুবসমাজসহ বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম দায়িত্ব নিতে হবে এবং কেউ যেন মানুষের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শহীদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে অন্যান্য শহীদ, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার বন্ধ করতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ঘোষণা করেছিলেন। আর জিয়াউর রহমান সেই অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে পাস করেন। তিনি বলেন, ‘সংবিধান লঙ্ঘন করে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত শুরু হয়। তিনি জেল থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেন এবং সাত খুনের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শফিউল আলম প্রধানকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ পেয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে কেউ এটিকে মুছে ফেলতে পারবেন না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুদ্ধিজীবী যাঁরা দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের নাম মুছে ফেলতে অশুভ চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘কিন্তু সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি, কারণ আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যায় না এবং এটি এখন বাংলাদেশে প্রমাণিত হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্ব মঞ্চে মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারলে শহীদদের আত্মত্যাগ ও মহান অবদান চিরকালের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীন বাংলাদেশ দিয়ে গেছেন, সেই দেশটি এখন ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে আবারও এগিয়ে চলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা