kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ক্ষুধার্ত বন্য হাতির পাল বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খাবারের সন্ধানে ক্ষুধার্ত এক দল বন্য হাতির পাল ঢুকে পড়েছে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। ১০ দিন ধরে হাতিগুলো পার্কে অবস্থান নিয়ে খাবারের সন্ধানে এখানে-ওখানে বিচরণ করছে। তবে অন্যান্যবারের মতো পার্কের কোনো স্থাপনায় গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত হানা দেয়নি হাতির দল। প্রতিবছর শীত মৌসুম শুরুর পর থেকে পার্কের পূর্ব সীমান্তের দেয়ালবিহীন এলাকা দিয়ে হাতির পাল ঢুকে পড়ে পার্কে। পাহাড়ে খাদ্যসংকটের কারণে প্রতিবছরই ক্ষুধার্ত বন্য হাতির পাল পার্কের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তবে অন্যান্যবার পার্কের বিভিন্ন প্রাণীর বেষ্টনীতে হানা দিলেও এবার এখনো পর্যন্ত সে রকম কিছু ঘটায়নি হস্তীবাহিনী।

বন বিভাগ ও বন্য হাতি বিশেষজ্ঞদের মতে, চকরিয়া ও লামার সীমান্তবর্তী কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভিন্ন মৌজায় বন্য হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ছিল। বিশেষ করে ফাঁসিয়াখালী বন বিটের সীমান্তবর্তী উচিতারবিল মৌজায় ছিল বন্য হাতির অন্যতম আবাসস্থল তথা অভয়ারণ্য। কিন্তু এক যুগ আগে থেকে উচিতারবিলের অভয়ারণ্য ধ্বংস, পাহাড় কেটে সাবাড় ও ঘন জঙ্গলে থাকা হাতিদের নিরাপদ খাদ্যভাণ্ডার তছনছ করে অবৈধ ইটভাটা গড়ে তোলার কারণে বারবার বন্য হাতি লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। প্রতিবছর ক্ষেতের ফসল, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিরীহ মানুষকে পিষে মারছে দানবীয় এই প্রাণীর দল। খাবারের সন্ধানে সাফারি পার্কের ভেতরেও ঢুকে পড়ছে বেপরোয়া তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধ্বংস করে ফেলা বন্য হাতির আবাসস্থল যদি আগের মতো গড়ে তোলা যায়, তাহলে ক্ষুধার্ত হাতি আর লোকালয়ে হানা দেবে না।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, এবার পার্কে ঢুকে পড়া বন্য হাতির পালে ১২টি প্রাপ্তবয়স্ক এবং তিনটি শাবক রয়েছে। অন্যান্যবারের মতো পার্কের ভেতর এখনো উচ্ছৃঙ্খল আচরণ না করে অনেকটা শান্ত রয়েছে এরা। তবে পালটিকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটক-দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায়ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একই বিষয়ে কক্সবাজারের উত্তর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘হাতির হানা থেকে বাঁচতে তাদের নিজেদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা