kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নূরের গাড়িবহরে হামলার ছয় বছর

চার্জ গঠনের অপেক্ষায় দেড় বছর

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নীলফামারীতে সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা ও চার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হত্যা ঘটনার ছয় বছর পূর্তি আজ ১৪ ডিসেম্বর। মামলার ২০৬ জন আসামির মধ্যে আজও অধরা সাতজন। আবার দুজন বাদে অন্য আসামিরা আছে জামিনে। মামলাটি চার্জ (অভিযোগ) গঠনের অপেক্ষায় পড়ে আছে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে। দীর্ঘ সময়েও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। এ রাতে জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ও পলাশবাড়ী গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও হামলা করেন জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা। ১৪ ডিসেম্বর সদর আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা শহরে ফেরার পথে বিকেলে টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন। হামলায় সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রাণে বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মীকে হত্যা করেন ধারালো অস্ত্রধারী জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা। নিহতরা হলেন টুপামারী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী, টুপামারী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন শাহ্ ও তাঁর ছোট ভাই মুরাদ হোসেন শাহ্, আওয়ামী লীগকর্মী লিটন হোসেন লেবু।

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, নৃশংস, আলোচিত ওই হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার কোনো অগ্রগতি নেই ছয় বছরেও। আসামিরা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে দম্ভে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর সাত আসামি এখনো অধরা।

মামলার বাদী নীলফামারী সদর থানার ওসি বাবুল আকতার বর্তমানে বদলিজনিত কারণে চট্টগ্রামে আছেন। মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় আমি বাদী হয়ে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ (প্রধান আসামি) ১৪ জনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় দেড় হাজার জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা করি। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১১ মার্চ ২০৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক মো. মোস্তাফিজার রহমান। মামলাটি নীলফামারী জজ আদালতে বিচারাধীন। এখনো সাক্ষ্য শুরু হয়নি।’

নীলফামারী জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অক্ষয় কুমার রায় বলেন, মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চার্জ গঠনের অপেক্ষায় আছে। ওই আদালতে প্রায় দেড় বছর ধরে বিচারক না থাকায় মামলাটির অগ্রগতি হচ্ছে না। ২০৬ আসামির মধ্যে সাতজন এখনো পলাতক। বাকিরা জামিনে আছেন, দুজন মারা গেছেন।

টুপামারী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত সময়ে বিচার সম্পাদনের। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও সেটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা হতাশ। নারকীয় ওই হত্যা ও হামলার ঘটনায় জড়িতরা দম্ভে ঘুরে বেড়াচ্ছে চোখের সামনে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা