kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

যৌতুকবিহীন ২০ বিয়ে

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যৌতুকবিহীন ২০ বিয়ে

মাঠে থরে থরে সাজানো সেলাই মেশিন, লেপ-তোশক, ব্যাগসহ উপহারসামগ্রী। পাশে ২০ জোড়া তরুণ-তরুণী। তাঁদের ঘিরে জনপ্রতিনিধি, নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি এবং হাজারো উত্সুক মানুষের ভিড়। সবার মুখে হাসি। দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এমন আনন্দঘন পরিবেশে হয়ে গেল ওই ২০ জোড়া তরুণ-তরুণীর বিয়ে। যৌতুকবিহীন বিয়ে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে বীরগঞ্জ উপজেলার বটতলী ফয়জিয়া মদিনাতুল উলুম মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

যৌতুকবিহীন বিয়ে দেখার জন্য মাঠে মানুষের ঢল নামে। বিকেলে ২০ জোড়া বর ও কনেকে সাজিয়ে আনা হয় অনুষ্ঠানস্থলে। বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে এই বর-কনেদের বিয়ে পড়ান মাওলানা আবেদ আলী। দাম্পত্যজীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা হয়। পরে নতুন সংসার সাজাতে নবদম্পতিদের হাতে সেলাই মেশিন, ছাগল, লেপ-তোশক, রান্নাঘরের আসবাবপত্র, হাঁড়ি-পাতিলসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি তুলে দেওয়া হয়। এসব দিয়েছে আয়োজকসহ সাধারণ মানুষ।

আয়োজকরা জানান, এসব বর-কনে এতিম ও হতদরিদ্র। অভিভাবকদের তাঁদের বিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য নেই বললেই চলে। তাই বিয়ের এমন আয়োজন করা হয়। সুন্দর এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের (বীরগঞ্জ-কাহারোল) সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল। তিনি ২০ কনেকে শাড়ি উপহার দেন। বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা ও ইসলাহুল মুসলিমীন পরিষদ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসঊদ বিয়েতে তত্ত্বাবধান করেন। বিয়ের সব তদারকি করেন বাংলাদেশ ইসলাহুল মুসলিমীন পরিষদ দিনাজপুরের প্রতিনিধি মাওলানা আইয়ুব আলী আনসারী।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ সদস্য আতাউর রহমান বাবু, বীরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়শা আক্তার বৃষ্টি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম এ খালেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নুর ইসলাম নুর ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামিম আলম ফিরোজ, সাতোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শেখসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজক ফরিদ উদ্দিন মাসঊদ বলেন, ‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যাঁরা খরচের ভয়ে বৈবাহিক জীবন গঠন করতে পারেন না, তাঁদের জন্যই যৌতুকবিহীন বিয়ের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া এই ধরনের বিয়ের মাধ্যমে যৌতুকের যে কুপ্রভাব সেটি তুলে ধরা এবং যৌতুক দেওয়া কিংবা নেওয়া যে ধর্মীয়ভাবে নিষেধ, সেটিও জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই বিয়ের লক্ষ্য।’

প্রধান অতিথি মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি। ব্যাধিটি দূর করতে সরকার প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি সবাই যৌতুকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে মুক্ত হবে সমাজ। যৌতুক দেওয়া কিংবা নেওয়া ধর্মীয়ভাবেও নিষিদ্ধ। এই ধরনের বিয়ে সেই বার্তা পৌঁছে দেবে ঘরে ঘরে। নববিবাহিত তরুণ-তরুণীদের সামাজিক জীবনে সর্বত্র সাফল্য কামনা করে যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য। তিনি মনে করেন, ‘এজাতীয় উদ্যোগে আমাদের সমাজ সুন্দরের পথে হাঁটবে, সমাজ কুসংস্কারমুক্ত হবে।’

একই অনুষ্ঠানে কোরআন শিক্ষায় ৪৬ জন শিক্ষার্থীকে সনদপত্র বিতরণ করেন প্রধান অতিথি মনোরঞ্জন শীল গোপাল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা